তানজীনা ফেরদৌস
নির্বাহী সম্পাদক, অনিকেত বুলেটিন
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১৩ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশজুড়ে গণপিটুনিতে অন্তত ২২০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৭ জন মানুষ তথাকথিত বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে থাকা জনতার হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
এই সংখ্যা কোনো বিচ্ছিন্ন পরিসংখ্যান নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে অসংখ্য মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পিটিয়ে হত্যা করা মানুষ, গুজবের ভিত্তিতে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার পরিবার, মানসিক অসুস্থতাকে অপরাধ হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করে হত্যা করা ব্যক্তি, এবং এমন শিশুরা, যারা কখনো কোনো বিচারকের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি, এমনকি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগও পায়নি।
ন্যায়বিচার বা মব-জাস্টিসের নামে সংঘটিত গণপিটুনি ও অন্যান্য মব-সন্ত্রাস আজ বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মব-সন্ত্রাস বা গণপিটুনির সামাজিক ধ্বংসযজ্ঞ
গণবিচারের সামাজিক প্রভাব কেবল তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রতিটি ঘটনা একটি সমাজকে একত্রে ধরে রাখা পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে করে দেয়।যখন কোনো জনতা নিজেদের আইনপ্রয়োগকারী, বিচারক এবং শাস্তিদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, তখন তারা সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে একটি বিপজ্জনক বার্তা দেয় যে রাষ্ট্রের প্রচলিত প্রতিষ্ঠান, পুলিশ, আদালত এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রাখার প্রয়োজন নেই।
আইনের বাইরে সহিংসতার এই স্বাভাবিকীকরণ একটি ভীতিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ তৈরি করে। প্রতিবেশী হয়ে ওঠে সন্দেহের উৎস, অভিযোগ হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ। সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, অভিবাসী শ্রমিক, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়, কারণ আত্মপক্ষ সমর্থন বা ন্যায়বিচার দাবি করার সক্ষমতা তাদের সবচেয়ে কম।
প্রতিটি গণপিটুনির প্রভাব মানুষের মনোজগতেও গভীর ক্ষত তৈরি করে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবার অনেক সময় বিচার, সত্য এবং রাষ্ট্রের স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত অবস্থায় জীবন কাটায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা, বিশেষ করে শিশুরা, এমন ঘটনার সাক্ষী হয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত বহন করে।যেসব সমাজ গণপিটুনির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অপরাধবোধ, সামাজিক বিভাজন এবং আগ্রাসনের সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে। ধীরে ধীরে এসব প্রবণতা স্থানীয় সামাজিক কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে এবং সমাজের ঐক্য ও সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।এই চক্র বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে দেয়।
মানবাধিকারের ধারাবাহিক লঙ্ঘন
গণবিচার বা জনতার হাতে শাস্তি প্রদান কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৫ অনুচ্ছেদে নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গণপিটুনিতে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড একই সঙ্গে এসব সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে ন্যায্য ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে চুরি, জাদুবিদ্যা বা অন্য কোনো অভিযোগে জনতা হত্যা করলে তার ন্যায্য বিচারের অধিকার চিরতরে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়।
রাষ্ট্র যদি এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কার্যকরভাবে বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়, তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের রূপ নেয়। নথিভুক্ত ৪৬টি গণপিটুনির ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৯ হাজারের বেশি অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ১১৪ জন। অর্থাৎ গ্রেপ্তারের হার প্রায় ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।এত ব্যাপক মাত্রার দায়মুক্তি শুধু সক্ষমতার ঘাটতি নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেরও প্রতিফলন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে (এসডিজি) মানবাধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের আলোকে গণবিচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কোনো ঐচ্ছিক সংস্কার নয়, বরং উন্নয়ন নীতির একটি অপরিহার্য অংশ।এসডিজি ১৬ শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা, সবার জন্য ন্যায়বিচারের সুযোগ এবং কার্যকর, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।
যেই দেশে জনতা নিয়মিতভাবে নাগরিকদের হত্যা করে এবং অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায়, সে দেশ এই লক্ষ্যের দিকে প্রকৃত অগ্রগতি দাবি করতে পারে না।এসডিজি ১০, যেখানে বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সঙ্গেও গণপিটুনির বিষয়টি গভীরভাবে সম্পর্কিত। কারণ এই সহিংসতার শিকার প্রায়ই হন সমাজের দুর্বলতম অংশ, যেমন দরিদ্র মানুষ, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।এটি প্রমাণ করে যে গণপিটুনি কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি কাঠামোগত বৈষম্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি সামাজিক সমস্যা।
একইভাবে এসডিজি ৩, যেখানে সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, সেখানেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাপক গণসহিংসতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুরো সমাজের ওপর যে মানসিক স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়ে, তা একটি গুরুতর কিন্তু এখনও যথেষ্ট গুরুত্ব না পাওয়া জনস্বাস্থ্য সংকট।
করণীয়: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণবিচারের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে হতে হবে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনমুখী।গণপিটুনির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এর সঙ্গে কার্যকর শাস্তির নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কোনো গণসহিংসতার ঘটনা ঘটলে গণমাধ্যম বা রাজনৈতিক কোনো চাপের তোয়াক্কা না করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরপেক্ষ ফৌজদারি তদন্ত শুরু করতে হবে।
বর্তমানে দেখা যায়, কোনো ঘটনা ব্যাপক জনমত তৈরি করলে দ্রুত গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু কম আলোচিত ঘটনাগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। এই ধরনের আচরণও এক ধরনের বাছাই করা বিচারপ্রক্রিয়া, যা সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দুর্বল করে এবং সমাজে অবিশ্বাস বাড়ায়।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এমন দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট গঠন করা জরুরি, যাদের বিশেষভাবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা প্রশমন এবং সংঘাত এড়ানোর প্রশিক্ষণ থাকবে। সামাজিক উত্তেজনার সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব ইউনিট দ্রুত মোতায়েন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি গণহামলার সময় হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হন, ঘটনা ঘটার পর নিষ্ক্রিয় থাকেন, অথবা পরিচিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে অবহেলা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা শহুরে অঞ্চলে, যেখানে গণপিটুনির ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে, সেখানে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক তৈরি করতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং এর জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে।গণপিটুনি সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হলে জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে রাষ্ট্রের প্রচলিত বিচারব্যবস্থা কার্যকর, ন্যায়সংগত এবং সবার জন্য সমান।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যা করতে পারে
গণপিটুনির পেছনে থাকা সামাজিক বাস্তবতাগুলো মোকাবিলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণত এমন সমাজেই গণসহিংসতার প্রবণতা বাড়ে, যেখানে রাষ্ট্র ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, অভিযোগ জানানোর বৈধ পথ সীমিত থাকে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠী পর্যাপ্ত সুরক্ষা পায় না। এই ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে।
প্রথমত, দেশব্যাপী একটি সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, যা স্কুল, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে শুধু জানানো নয় যে গণবিচার বা জনতার হাতে শাস্তি প্রদান বেআইনি, বরং কেন নিরপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায্য বিচারের অধিকার একটি সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তি, তা বোঝাতে হবে।বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ন্যায়বিচার ও সাম্যের ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে নাগরিক সচেতনতার এই ধারণাগুলো যুক্ত করা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয়ত, গণপিটুনিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ মানসিক ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের পরিবারকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং এবং আইনি সহায়তার সুযোগ দিতে হবে। এ ধরনের সহায়তা না থাকলে ক্ষত ও আঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা ভবিষ্যতে ক্ষোভ, বিচ্ছিন্নতা এবং সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
তৃতীয়ত, যেসব জনগোষ্ঠী গণসহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে, তাদের জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানসিক বা মনোসামাজিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি, গৃহহীন মানুষ এবং অভিবাসী শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত। এই জনগোষ্ঠীগুলো অনেক সময় সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাদের অন্তর্ভুক্তি, মর্যাদা এবং নিরাপত্তায় বিনিয়োগ মানে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা, যেখানে গণবিচারের মতো সহিংস প্রবণতা বিকশিত হয়।
একটি জাতির সামনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ আজ তার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।কিন্তু এমন একটি ধারণা যে, গণসহিংসতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির ওপর দাঁড়িয়ে কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।সরকারকে শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং প্রত্যেকের জীবন ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত।
এই অঙ্গীকার শুধু সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতা নয়, বরং এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার পূর্বশর্ত, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
