শেখ সেলিম
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় নেই, অর্থাৎ তাঁরা কোনো ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেন না এবং সব লেনদেন করেন নগদে বা অনিরাপদ উপায়ে। এই জনগোষ্ঠীর আর্থিক শিক্ষার হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। বাংলাদেশে এই চ্যালেঞ্জ আরও জটিল। আমাদের দেশে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মাত্র ৩৬ শতাংশ এবং পুরুষদের ৬৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিংয়ের আওতায় আছেন।
বাংলাদেশে মাত্র ৫১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক হিসাব আছে। এর মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশের কাছে কোনো ধরনের ব্যাংক কার্ড আছে এবং মাত্র ৩৪ শতাংশ ডিজিটাল মাধ্যমে (যেমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল অ্যাপ) ব্যাংকিং লেনদেন করেন। বাকি ৪৯ শতাংশ, যাঁরা এখনো ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে, তাঁরা নগদ বা অন্য কোনো তুলনামূলক অনিরাপদ উপায়ে লেনদেন করেন।
এই সপ্তাহের লেখাটি বাংলাদেশের, বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, এর বাইরেও অনেক কিছু জড়িয়ে আছে। সেই “অনেক কিছু” নিয়ে খুব একটা খোলামেলা আলোচনা হয় না। এই লেখার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে ব্যাপক আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফলগুলো তুলে ধরা। পাশাপাশি গ্রামীণ বাংলাদেশে এই লক্ষ্য অর্জনে কিছু নীতিগত করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হবে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অর্থনীতি
বিশ্বের যে ২১ শতাংশ মানুষ এখনো ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে, তাঁদের যদি প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক খাতের আওতায় আনা যায়, তাহলে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাজার আরও ২৬ শতাংশ বাড়বে, কর ফাঁকি ৩১ শতাংশ কমবে এবং অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মতো আর্থিক অপরাধ প্রায় ৪৬ শতাংশ কমে আসবে। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। যে দেশে জনসংখ্যার মাত্র অর্ধেক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিংয়ের আওতায়, সেখানে কর ফাঁকির প্রবণতা ও সুযোগ অনেক বেশি, আর আর্থিক অপরাধ ও দুর্নীতির প্রকোপও তুলনামূলকভাবে বেশি। আমরা ইতিমধ্যে এর প্রমাণ দেখেছি।
আর্থিক শিক্ষার অভাবের কারণে অর্থ পাচার হচ্ছে, দুর্নীতি দমনের চেষ্টায় কর্তৃপক্ষ আর্থিক নথিপত্র খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে, আর কিছু ব্যাংকিং মহলের অনৈতিক চর্চার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকের প্রতি অবিশ্বাস বাড়ছে। মানুষ ক্রমেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ছে। অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, যার ফলে জমাকৃত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ব্যাংকিং অন্তর্ভুক্তির দিক থেকে আমাদের দেশের নারীরা পুরুষদের তুলনায় বহু পিছিয়ে। নারীদের এই অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি এবং আর্থিক শিক্ষার অভাব আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান, অবস্থান ও দায়িত্বের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ার একটি বড় কারণ। চালক, গৃহকর্মী, নিরাপত্তারক্ষীসহ আমাদের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশও এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে। এই ধারা চলতে থাকলে সঞ্চয় সংগ্রহের গতি থমকে যাবে, স্থানীয় বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হবে না, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং অর্থ পাচারের সমস্যা রয়েই যাবে।
এমন পরিস্থিতির পেছনে কারণ, অর্থ ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিক চ্যানেল বোঝার ক্ষেত্রে আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। গ্রামীণ বাংলাদেশে এই গতি আরও ধীর। দারিদ্র্য কমানো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং গ্রামীণ বাংলাদেশে জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ারগুলোর একটি হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং সেবা, সঞ্চয়, ঋণ, বিমা এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সুবিধা পেতে পারেন। এটা নিছক সাধারণ বুদ্ধির কথা। এই অগ্রগতিকে কীভাবে সহজ করা যায় এবং সাধারণ বুদ্ধির এই বিষয়গুলোকে কীভাবে আরও সাধারণ করে তোলা যায়, সেটাই এই লেখার লক্ষ্য।
গ্রামীণ বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
মোবাইল ব্যাংকিং ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করলেও, গ্রামীণ জনসংখ্যার একটা বড় অংশ এখনো সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সেবা পেতে নানা বাধার মুখে পড়ে। আর্থিক ব্যবস্থা সহজ করা এবং বাস্তবমুখী সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব, যা টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে অবদান রাখবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই কাজ প্রতিষ্ঠা করতে এত সময় লাগছে কেন?
বাংলাদেশে গ্রামীণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার জটিলতা। অতিরিক্ত কাগজপত্র, দীর্ঘ আবেদন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক নিয়মকানুন সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানের কারণে গ্রামের অনেক মানুষ ব্যাংক হিসাব খুলতে দ্বিধায় পড়েন। সাধারণ বুদ্ধির কথা হলো, ব্যাংকগুলোর উচিত কম কাগজপত্র চেয়ে, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবহার করে এবং সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের শর্তসহ সহজ, স্বল্প খরচের হিসাব চালু করে হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা। সহজ ও ব্যবহারবান্ধব আর্থিক পণ্য নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক। তবে বলা যত সহজ, বাস্তবায়ন তত সহজ নয়, কারণ এর জন্য বহু স্তরের সমন্বিত নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার প্রয়োজন।
শহুরে বাংলাদেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যাংকিং সুবিধার চিত্র পাল্টে দিলেও, আরও কৌশলগত সম্প্রসারণ প্রয়োজন। সহজ কথায়, শুধু কাগজে-কলমে এই কাজ শেষ করলেই চলবে না। মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে মানুষ ব্যাংক শাখায় না গিয়েই টাকা পাঠাতে ও পেতে পারেন, বিল দিতে পারেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন, তবে মাঝারি বা বড় পরিসরে কৃষি ও শিল্পঋণ পাওয়ার এবং সঞ্চয় সংগ্রহের প্রকৃত ভিত্তি তৈরি হয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই।
সঠিক অর্থে গ্রামীণ বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বলতে বোঝায়, যেখানে অধিক সংখ্যক গ্রামবাসী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বহু গ্রামবাসী এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং, সুদের হিসাব, ডিজিটাল লেনদেন কিংবা আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অপরিচিত। তাঁদের সচেতন করে তোলার প্রক্রিয়া সহজ নয়। এটি তখনই সম্ভব, যখন সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব সচেতনতামূলক কর্মসূচির প্রভাব ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেবে।
এই উদ্যোগ নিয়মিত হতে হবে, বছরজুড়ে পরিকল্পিতভাবে চালু রাখতে হবে এবং উপযুক্ত প্রণোদনা দিতে হবে। এমন আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি স্কুল, কলেজ, কমিউনিটি সংগঠন, কৃষি সম্প্রসারণ সেবা ও স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। এতে সঞ্চয়, বাজেট তৈরি, দায়িত্বশীলভাবে ঋণ নেওয়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ থাকা প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমাবে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগে নারীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও, আর্থিক সেবা পেতে তাঁদের এখনো নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধার মুখোমুখি হতে হয়। সরকার উদ্যোগ নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নারী উদ্যোক্তা, কৃষক ও স্বনির্ভর কর্মীদের জন্য বিশেষ পণ্য তৈরিতে নিয়ন্ত্রিত করতে পারে। সহজ ঋণ প্রক্রিয়া, আর্থিক শিক্ষা এবং নিবেদিত গ্রাহক সহায়তা নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা মজবুত করতে সাহায্য করবে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও কৃষি
কৃষি এখনো গ্রামীণ বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাই কৃষিঋণ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জামানতের শর্ত ও জটিল ঋণ প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষুদ্র কৃষকেরা প্রায়ই সাশ্রয়ী ঋণ পেতে সংগ্রাম করেন। কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান মৌসুমি আয়ের চক্র ও ফসল উৎপাদনের সময়সূচির সঙ্গে মানানসই নমনীয় কৃষিঋণ পণ্য চালু করেছে। তবে এসব ঋণ পণ্যের ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য কৃষিপণ্যের বিতরণ ও ন্যায্য মূল্য নিয়ে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এর মধ্যে ফসল বিমা, আবহাওয়াভিত্তিক বিমা এবং কৃষি ভর্তুকির ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা আর্থিক ঝুঁকি কমাবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। এর কিছু অংশ (যেমন কৃষক কার্ড) ইতিমধ্যে চালু হয়েছে, যদিও পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।
এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রামীণ আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের আরেকটি বাস্তবসম্মত সমাধান। গ্রাহকদের শহরের ব্যাংক শাখায় দূরদূরান্তে যাওয়ার পরিবর্তে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রামে গ্রামে বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ করতে পারে, যাঁরা মৌলিক ব্যাংকিং সেবা দেবেন। ভারতে একই ধরনের মডেল সফলভাবে চলছে। এমন এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রামীণ গ্রাহকদের যাতায়াত খরচ কমাবে, সময় বাঁচাবে এবং সুবিধা বাড়াবে। স্থানীয় এজেন্টরা কমিউনিটির মধ্যে আস্থা গড়ে তুলবেন, যা আরও বেশি মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সুবিধাগুলো সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবে পাঠিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও মজবুত করতে পারে। পেনশন, বৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা ডিজিটাল মাধ্যমে বিতরণ করা হলে ফাঁকফোকর কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার সঙ্গে পরিচিত হবেন। এমন সংস্কারের জন্য শক্তিশালী টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের (বা ভর্তুকিযুক্ত) স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা প্রয়োজন হবে। একবার সুবিধাভোগীরা এসব হিসাব ও সুবিধা ব্যবহার শুরু করলে, তাঁদের অন্যান্য আর্থিক পণ্য যেমন সঞ্চয় হিসাব ও বিমা গ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে।
উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
গ্রামীণ ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলোরও আরও ভালো আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এটা সর্বজনবিদিত যে সহজ ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া, ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ জোগাতে পারে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে। এর জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু প্রচলিত জামানতের ওপর নির্ভর না করে, ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করে মূল্যায়ন করতে হবে। এমন ব্যবস্থা শুধু সামাজিক ব্যাংকিং বা ক্ষুদ্রঋণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, বড় পরিসরে প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোক্তা উন্নয়নকেই বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির টেকসই কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এসবের মধ্যে গ্রাহক সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ গ্রাহকদের এই আস্থা থাকা প্রয়োজন যে তাঁদের টাকা নিরাপদ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যায্যভাবে কাজ করছে। বিশেষায়িত ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বি টু বি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ব্যাংকিং সেবা ও পণ্যের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ, ফি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য, কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল প্রতারণা থেকে সুরক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরিতে সহায়ক হবে।
গ্রামীণ বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হলে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ করা, আর্থিক শিক্ষা মজবুত করা, নারী ও কৃষকদের সহায়তা দেওয়া, এজেন্ট ব্যাংকিংকে উৎসাহিত করা এবং সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য আর্থিক পণ্য পৌঁছে দিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল সেবাদাতা এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আর্থিক সেবাকে সহজ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করতে পারবে, স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে পারবে, দারিদ্র্য কমাতে পারবে এবং একটি আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারবে।
