শেখ সেলিম
অনিকেত রিসার্চ গ্রুপ
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী যখন বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরিচালনা পর্ষদের কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন, তখন অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায় হিসেবে দেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন রয়েছে। জ্বালানি সংকটে থাকা, বৈদেশিক ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়া একটি দেশের জন্য অর্থায়নকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিগত পরিবর্তনের অর্থ কী?
এ ধরনের পরিবর্তন বাংলাদেশের বাজেট, জ্বালানি আমদানি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে নির্ভরশীল ঋণের শর্ত, মেয়াদ ও অগ্রাধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কার্যকর করতে হলে বিশ্বব্যাংকের অংশীদার দেশগুলোর ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন। তারপরও দায়িত্বশীল সরকারের উচিত আগেভাগেই এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করা, দেশের ঋণ ও জ্বালানি পরিকল্পনায় সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা এবং প্রস্তাবগুলো নীতিতে পরিণত হওয়ার আগেই নিজস্ব অবস্থান নির্ধারণ করা।
ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা কী
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন পর্যায়ের প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আগাম কোনো জ্বালানি বা প্রযুক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া কিংবা বাদ দেওয়ার পরিবর্তে সব বিকল্প বিবেচনায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিবৃতিতে পারমাণবিক জ্বালানি খাতে সহায়তার জন্য একটি নতুন ট্রাস্ট ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের ঘোষণা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান, উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, এমনকি গভীর সমুদ্রের তলদেশ থেকে খনিজ আহরণেও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চীন ও পোল্যান্ডের মতো তুলনামূলক সচ্ছল ঋণগ্রহীতা দেশগুলোকে বিশ্বব্যাংকের ঋণ কর্মসূচি থেকে দ্রুত উত্তরণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য আরও বেশি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়। সরকারি ভর্তুকি ও শিল্পনীতির কারণে বাজারে যে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তা বন্ধ করতে ক্রয়প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে।
সবশেষে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী বলে ওয়াশিংটন যেসব বাজারবিকৃতিমূলক কর্মকাণ্ড ও বিনিময় হারনীতিকে চিহ্নিত করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইএমএফের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব দাবি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দুটিকে জ্বালানি সরবরাহ, কৌশলগত খনিজ সম্পদ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তানির্ভর প্রতিযোগিতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।
তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা
বিশ্বব্যাংকের তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন পর্যায়ের প্রকল্পে পুনরায় অর্থায়ন শুরু হলে বাংলাদেশ একই সঙ্গে সুযোগ ও ঝুঁকির মুখে পড়বে। দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে আসছে। ফলে অস্থির ও প্রায়ই অসহনীয় দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমার মধ্যে গ্যাস অনুসন্ধানেও প্রয়োজনীয় পুঁজি ও কারিগরি দক্ষতার অভাব রয়েছে। নতুন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং আমদানির চাপ কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে। অনুসন্ধান করলেই যে গ্যাস পাওয়া যাবে, তার নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে, জীবাশ্ম জ্বালানিতে অতিরিক্ত অর্থায়ন সৌরবিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানোর মতো খাত থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতার দিকে ঝোঁক বাংলাদেশের জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোর করতে থাকা ইউরোপীয় পোশাক আমদানিকারকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
পারমাণবিক জ্বালানির জন্য প্রস্তাবিত ট্রাস্ট ফান্ডের বিষয়টি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিরাপত্তা, পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়তা পাওয়া গেলে কারিগরি ও আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রকল্পের সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে দাতাদের নির্ধারিত শর্ত ও অগ্রাধিকারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়াও একটি ঝুঁকি।
গভীর সমুদ্র থেকে খনিজ আহরণের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য আপাতত দূরবর্তী মনে হতে পারে। কিন্তু সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর দেশটির অধীনে একটি বিস্তৃত সামুদ্রিক অঞ্চল রয়েছে। সমুদ্রতলদেশে খনিজ আহরণ উন্মুক্ত করার বৈশ্বিক উদ্যোগ বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রসীমার ওপর সার্বভৌম অধিকার, কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া মৎস্যসম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে ন্যায্য শর্ত নিশ্চিত করার সক্ষমতা। সামুদ্রিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকলে নিজেদের জলসীমা নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তেও বাংলাদেশ কেবল দর্শকের ভূমিকায় থেকে যেতে পারে।
এলডিসি উত্তরণ, সরকারি ক্রয় ও আর্থিক চাপ
বিশ্বব্যাংকের ঋণ গ্রহণে দ্রুত উত্তরণের আহ্বান বাংলাদেশের বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। কারণ, দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক যদি স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতার নিয়ম আরও কঠোর করে, তাহলে পরিকল্পনার আগেই বাংলাদেশকে কঠিন ঋণশর্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়বে। অথচ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রাজস্ব আহরণ, দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। আইএমএফের সাম্প্রতিক পরামর্শে কঠোর মুদ্রানীতি এবং গভীর কাঠামোগত সংস্কারের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার সুযোগও সীমিত।
সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার সংস্কার শুনতে কারিগরি বিষয় মনে হলেও এর গুরুত্ব যথেষ্ট। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, সার ও রপ্তানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ব্যাহত করে, এমন সরকারি সহায়তাকে নিরুৎসাহিত করার নিয়ম চালু হলে দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের পরিসর সংকুচিত হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া অবশ্যই প্রয়োজন। এতে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এসব মানদণ্ড যেন সব দেশের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর সরবরাহকারীরা যেন বিশেষ সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের সামনে অন্তত চারটি উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। প্রথমত, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নতুন অর্থায়ন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার কমিয়ে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে অকার্যকর হয়ে পড়া সম্পদে অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, এলডিসি উত্তরণের পর স্বল্পসুদে ঋণ পাওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। তৃতীয়ত, ভর্তুকি, বিনিময় হার ও শিল্প খাতে সরকারি সহায়তার বিষয়ে নীতিগত স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে। চতুর্থত, সমুদ্রতলদেশের খনিজ সম্পদ ও পারমাণবিক প্রযুক্তির মতো তুলনামূলক নতুন ও জটিল বিষয়ে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষির জন্য বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা এখনো দুর্বল।
আগাম প্রস্তুতিই বাংলাদেশের করণীয়
বাংলাদেশের উচিত অন্যদের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করা। অর্থ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গ্যাস অনুসন্ধানের একটি সুস্পষ্ট ও ব্যয়ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে কোন কোন ব্লকে অনুসন্ধান হবে, কত বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বাস্তবসম্মত সময়সীমা কত, তা নির্দিষ্ট থাকতে হবে। তাহলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ দ্রুত এবং নিজের শর্ত অনুযায়ী তা কাজে লাগাতে পারবে।
এই পরিকল্পনাকে বৃহত্তর জ্বালানি রূপরেখার অংশ হতে হবে। গ্যাস, সৌরবিদ্যুৎ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারকে এলডিসি উত্তরণের সময় এগিয়ে এলে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের ব্যয় কতটা বাড়তে পারে, তার একাধিক হিসাব তৈরি করতে হবে। বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক, দ্বিপক্ষীয় অংশীদার এবং অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থানও হওয়া উচিত সমন্বিত ও সুস্পষ্ট। একই ধরনের উত্তরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ অবস্থান তৈরি করলে আন্তর্জাতিক আলোচনায় অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতির কণ্ঠস্বরও গুরুত্ব পাবে।
গভীর সমুদ্রের খনিজ সম্পদ আহরণ ও পারমাণবিক জ্বালানির অর্থায়ন নিয়ে আগাম প্রস্তুতির জন্য আইনজ্ঞ, সামুদ্রিক বিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা যেতে পারে। কোনো প্রস্তাব বা অর্থায়নের সুযোগ আসার পর নয়, বরং তার আগেই এসব বিষয়ে দেশের স্বার্থ, ঝুঁকি ও দর-কষাকষির সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
দেশের ভেতরে সুশাসন ও নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতাই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ভর্তুকির হিসাব প্রকাশ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। যে দেশ নিজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে পারে, আন্তর্জাতিক আলোচনায় তার দর-কষাকষির ক্ষমতাও থাকে। আর যে দেশ তা পারে না, তাকে শেষ পর্যন্ত অন্যের শর্ত মেনে নিতে হয়।
উপসংহার
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন এজেন্ডায় বাংলাদেশের জন্য যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি সতর্ক হওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে। জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগকে স্বাগত জানানো উচিত। তবে সেই অর্থায়ন গ্রহণ করতে হবে নিজেদের পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার ও শর্তের ভিত্তিতে। কোনো প্রস্তাব সামনে আসার আগেই বিনিয়োগের ক্ষেত্র, ব্যয় ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা জরুরি।
নিজস্ব পরিকল্পনা না থাকলে গ্যাস, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কিংবা খনিজ সম্পদ খাতে নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করতে পারে। এমনকি দেশের সামর্থ্যের বাইরে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে ভর্তুকি, শিল্পায়ন ও জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত স্বাধীনতাও সংকুচিত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগবে, নাকি দেশকে নতুন চাপের মুখে ফেলবে, তা নির্ধারণ করবে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সক্ষমতা, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর তৎপরতা নয়।
তথ্যসূত্র:
