ডেস্ক রিপোর্ট
অনিকেত ডেস্ক
সরকারি দপ্তরগুলোর ধীরগতিই বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগের পথে অন্যতম প্রধান বাধা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত)। ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত “The Compass Dialogue” অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে Institute of Strategy and Tactics Research।
মন্ত্রী জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারের কাছে বারবার যে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, তা হলো সমস্যার সমাধানে সরকারের প্রতিক্রিয়ার গতি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ধীর। তিনি স্বীকার করেন, এই ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রতা ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশকে নিরুৎসাহিত করছে। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে উন্নতির বড় সুযোগ ধরে রেখেছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত জড়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই হতাশ হন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমলাতন্ত্রে সংস্কার আনার পাশাপাশি একটি সত্যিকারের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে এই নির্দেশনা বাস্তবে প্রশাসনিক গতিকে কতটা বদলাতে পারে, সেটিই হবে এর কার্যকারিতার প্রধান মানদণ্ড। অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারেও সরকার একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ফসলভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সরকার, যা নিয়ে জনমনে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে অর্থনীতিকে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে জোর দেওয়া হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে। পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের দিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ খাতে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোম্পানি আহ্বানের সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ দেখাবে, রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে বড় লক্ষ্য ও বাস্তব পরিকল্পনাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলছে। মন্ত্রী স্বীকার করেন, অতীতের রাজনৈতিক জটিলতা পুরোপুরি নিরসন হয়নি, তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় ইতিবাচক।তিনি বলেন, স্থিতিশীলতাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকট এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যে একটি স্পষ্ট বার্তা উঠে আসে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাস্তব এবং তাৎপর্যপূর্ণ, তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোকে সেই গতিতে কাজ করতে হবে, যেভাবে দ্রুতগতির পুঁজি চলাচল করে।
এই প্রশাসনিক যন্ত্রের সংস্কার তাই কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি একই সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অপরিহার্যতা।
