শেখ সেলিম
প্রতি কয়েক বছর পরপর বাংলাদেশে যেন একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। গঠিত হয় বেতন কমিশন, ঘোষণা করা হয় নতুন পে স্কেল, সরকারি কর্মচারীরা উদ্যাপন করেন, আর সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে আসে বড় বড় শতাংশের হিসাব। প্রথম দেখায় সেই হিসাবগুলোকে অগ্রগতির চিহ্ন বলেই মনে হয়। ২০২৬ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরের বেতন কাঠামো হিসেবে নবম জাতীয় পে স্কেলের অনুমোদনও সেই একই ধারার বাইরে যায়নি।
সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ, সর্বোচ্চ গ্রেডে দ্বিগুণ হয়েছে। মন্ত্রীরা বলছেন, এই পরিবর্তন ঐতিহাসিক। কিন্তু মিরপুর থেকে বগুড়া, দেশের নানা প্রান্তের মানুষের ঘরে ঘরে যে সহজ প্রশ্ন উঠছে, তা আরও গুরুত্বপূর্ণ: ১১ বছর অপেক্ষা এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পর সরকারি কর্মচারীরা সত্যিই কি আগের চেয়ে ভালো আছেন, নাকি হাতে শুধু বড় অঙ্কের একটি সংখ্যা এসেছে? প্রশ্নটা নিছক কথার কথা নয়। এর উত্তর আছে সুনির্দিষ্ট অঙ্কে। আর সেই উত্তর খুব স্বস্তিদায়ক নয়।
যে লক্ষ্য সবসময় সামনে সরে যায়
যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির বাস্তবতায় ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছিল ১৩০ টাকা। নয়টি কমিশন পেরিয়ে সেই সর্বনিম্ন বেতন এখন দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকা। একই সময়ে সর্বোচ্চ বেতন ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। পাঁচ দশকের হিসাব দেখলে সংখ্যাগুলোকে রাষ্ট্রের অসাধারণ উদারতার গল্প বলে মনে হতে পারে। কিন্তু দশক ধরে হিসাব করলে ছবিটা অনেকটা টিকে থাকার সংগ্রামের মতোই দেখায়।
প্রতিটি কমিশন আগেরটির প্রায় এক দশক পর এসেছে। মাঝের সময়ে কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে। অথচ সেই বৃদ্ধি কখনোই মূল্যস্ফীতির পুরো চাপ সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। নবম পে স্কেল হঠাৎ কোনো সরকারি উদারতার ফল হিসেবে আসেনি। বরং ২০১৫ সালে নির্ধারিত আগের পে স্কেল ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি হিসেবে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল বলেই নতুন কাঠামোর প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
শতাংশের হিসাব যা আড়াল করে
পে স্কেল নিয়ে জনপরিসরের আলোচনা অনেক ক্ষেত্রেই উদার, কিন্তু যথেষ্ট নির্ভুল নয়। ১৪২ শতাংশ নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি শুনতে বড় অর্জন মনে হয়। কিন্তু কর্মচারী বাস্তবে কতটা বেশি পণ্য ও সেবা কিনতে পারছেন, তার সঙ্গে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক নেই। এই দুই হিসাবকে এক করে দেখাই সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনার সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি।
পার্থক্যটা বুঝতে হলে এমন একটি হিসাব করতে হবে, যা সরকারি পর্যায়ে প্রকাশ্য আলোচনায় খুব কমই দেখা যায়। ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল থেকে ২০২৬ সালের নবম পে স্কেল পর্যন্ত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাদ দিতে হবে। সেই মূল্যস্ফীতি মোটেও কোমল ছিল না। ২০২২ ও ২০২৩ সালের বড় একটি সময়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে তা প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছিল। এমনকি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং বিশ্বব্যাংকের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি বছরে গড়ে ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ধরা হয়, তাহলে ১১ বছরে পণ্যমূল্য যৌগিক হিসাবে প্রায় ১৩৩ শতাংশ বেড়েছে।
এবার পে স্কেলের অঙ্কের সঙ্গে সেই হিসাব মিলিয়ে দেখা যাক। সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন বেড়েছে ২ দশমিক ৪২ গুণ। অন্যদিকে পণ্যমূল্য বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩৩ গুণ। দুটি হিসাব ভাগ করলে দেখা যায়, সর্বনিম্ন বেতন পাওয়া কর্মচারীর প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ১১ বছরে বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। ১৪২ শতাংশ নয়। অর্থাৎ প্রকৃত আয় বৃদ্ধির হার বছরে গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। দেশের দীর্ঘমেয়াদি মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির তুলনায়ও এই হার অনেক ধীর।
সর্বোচ্চ গ্রেডের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ। একই সময়ে ১০০ শতাংশ নামমাত্র বেতন বৃদ্ধির বিপরীতে ১৩৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ধরলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৫ সালে একই পদে থাকা কর্মকর্তাদের তুলনায় আজকের সর্বোচ্চ গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তারা বাস্তবে কম পণ্য ও সেবা কিনতে পারেন।
মূল্যস্ফীতির হিসাব ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা কম ধরলেও দেখা যায়, নবম পে স্কেল ২০১৫ সালের পর থেকে হারানো ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারেনি। বরং ক্রয়ক্ষমতার ক্ষয় কিছুটা ধীর করেছে। এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পে স্কেল নিয়ে আলোচনা ও সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সেই বাস্তবতাই যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
নতুন বেতনের বিপরীতে কাজ করছে যে তিন চাপ
জীবনযাত্রার ব্যয় সামঞ্জস্য করার সমস্যা শুধু একটি সংখ্যার বিষয় নয়। অন্তত তিন ধরনের চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। সঠিক বিশ্লেষণের জন্য সেই চাপগুলো আলাদা করে দেখা জরুরি। সবকিছুকে একসঙ্গে মিলিয়ে শুধু ‘খরচ বেড়েছে’ বললে বাস্তব চিত্র ধরা পড়ে না।
প্রথম চাপ হলো মূল্যস্ফীতি। সরকারের নিজস্ব মজুরি বৃদ্ধির তথ্যই দেখাচ্ছে, বেতন বৃদ্ধির গতি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসেই প্রকৃত মজুরি প্রায় দুই শতাংশ কমেছে। এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। নতুন পে স্কেলের প্রয়োজন কেন তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে দীর্ঘদিনের এই প্রবণতাই বড় কারণ।
দ্বিতীয় চাপ হলো মুদ্রার অবমূল্যায়ন। সরকারি মূল্যস্ফীতির হিসাব এই ক্ষতির পুরোটা ধরতে পারে না। দুই পে স্কেলের মধ্যবর্তী এক দশকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের একটি বড় অংশ আমদানি করে। ফলে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব কিছুটা সময় নিয়ে হলেও দেশের বাজারদরে এসে পড়ে। সাধারণ ভোক্তা মূল্যসূচকের হিসাবে সেই চাপ পুরোপুরি ধরা নাও পড়তে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে যে প্রকৃত আয় কমার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ সম্ভবত তার চেয়েও বেশি।
তৃতীয় চাপ হলো ভৌগোলিক বৈষম্য। এখানেই অভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ঢাকার জন্য একটি জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণে মাসিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৮ হাজার ২২ টাকা। নতুন পে স্কেলে সরকারের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নামমাত্র বেতন বৃদ্ধির পরও ঢাকায় কর্মরত সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী প্রতি মাসে ওই জীবনযাপন ব্যয়ের মানদণ্ডের চেয়ে ২৮ হাজার টাকার বেশি পিছিয়ে থাকছেন। তাও শুধু ভাড়া বাদ দেওয়ার আগের হিসাব।
মিরপুর, মোহাম্মদপুর কিংবা উত্তরা এলাকায় একটি পরিবারের উপযোগী বাসার ভাড়া ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে একজন নবীন সরকারি কর্মচারীর পুরো মূল বেতনই খাবার, যাতায়াত কিংবা চিকিৎসা ব্যয়ের কথা বিবেচনা করার আগেই বাসাভাড়ায় শেষ হয়ে যেতে পারে।
ঢাকার বাইরে কর্মরত কর্মচারীদের হিসাব আলাদা। তবে সেই হিসাব সবসময় সহজ নয়। বগুড়া, কুমিল্লা কিংবা যশোরে বাসাভাড়া ঢাকার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক হতে পারে। কিন্তু সেই আপাত স্বস্তির আড়ালে রয়েছে অন্য ধরনের ব্যয়। উন্নত চিকিৎসার সুযোগ কম, ভালো স্কুলের সংখ্যা সীমিত, স্বামী বা স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ কম এবং দুর্বল গণপরিবহনের কারণে অনেক পরিবারকে ব্যয়বহুল রিকশার ওপর নির্ভর করতে হয়।
পে স্কেলে যশোরে উপার্জিত এক টাকা এবং ঢাকায় উপার্জিত এক টাকাকে প্রায় সমান হিসেবে দেখা হয়। কয়েকটি মহানগরের জন্য ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা থাকলেও বাস্তব ব্যবধান পূরণে তা যথেষ্ট নয়। কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক বেতন কাঠামো হলে এসব ভৌগোলিক পার্থক্যকে হিসাবের মধ্যে আনতে হবে। এক দেশের জন্য একটি অভিন্ন বেতন কাঠামো মানেই যে দুই ভিন্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাঠামো, এমন ধারণা আর টেকসই নয়।
সামনের বড় ঝুঁকি
আরেকটি ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রতি এখনো যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত যে একসঙ্গে কয়েক লাখ কর্মচারীর বেতন এতটা বাড়লে বাড়তি চাহিদা ও সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
যদি সেই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে সর্বনিম্ন গ্রেডের ১৪২ শতাংশ নামমাত্র বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ আবার সেই মূল্যস্ফীতির কারণেই হারিয়ে যেতে পারে। ফলে বর্তমানে যে মাত্র ৪ শতাংশ প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তা শূন্যের কাছাকাছি চলে যেতে পারে কিংবা নেতিবাচক হতে পারে। তখন বাংলাদেশ বিপুল আর্থিক ও রাজনৈতিক মূলধন ব্যয় করে এমন একটি সংস্কার বাস্তবায়ন করবে, যার দীর্ঘমেয়াদি সুফল ঘোষিত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।
আগের সব পে কমিশনই কমবেশি এই ফাঁদে পড়েছে। ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলও তখন যথেষ্ট উদার মনে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী এক দশকের মূল্যস্ফীতি এবং টাকার প্রায় অর্ধেক মূল্য হারানোর ফলে সেই কাঠামোর প্রকৃত মূল্য ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেছে।
নবম পে স্কেলের কাঠামোতেও এমন কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই, যা ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পারে। দশ বছর পরপর নতুন স্কেল, সারা দেশে অভিন্ন হার এবং সীমিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ওপর নির্ভরতা থাকলে পুরোনো সমস্যাই আবার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে।
এর সঙ্গে আচরণগত একটি ঝুঁকিও রয়েছে। কর্মচারীরা যদি নামমাত্র বেতন বৃদ্ধিকে প্রকৃত সম্পদ বৃদ্ধি হিসেবে দেখেন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তব হিসাব বিবেচনায় না নেন, তাহলে আর্থিক শৃঙ্খলা কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল হতে পারে। এমনকি ন্যায্য বেতন কাঠামোর মাধ্যমে যে দুর্নীতির প্রবণতা কমানোর প্রত্যাশা করা হয়, উল্টো সেই প্রবণতাও কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে।
বাস্তবে কী পরিবর্তন প্রয়োজন
আমার মতে, পরেরবার শুধু আরও বড় অঙ্কের বেতন ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ১১০ ডলার। আজ তা প্রায় ৩ হাজার ২০ ডলার। কিন্তু প্রকৃত জীবনযাত্রার উন্নতি সেই হারে এগোয়নি।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ দরিদ্র নয় এমন জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক, আবার দারিদ্র্যের দিকে পিছলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গড় পরিবারের মোট ব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো খাবারের পেছনে যায়। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি। অনেক নবীন সরকারি কর্মচারীর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়।
মাসে মাসে বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার ব্যয়কে এমন একটি বেতন কাঠামো দিয়ে সামলানো সম্ভব নয়, যেখানে দশ বছর পরপর বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রয়োজন বেতন কাঠামোর ভেতরেই একটি কার্যকর জীবনযাত্রার ব্যয় সূচক যুক্ত করা। বছরে একবার বাস্তব ভোক্তা মূল্যসূচকের সঙ্গে স্বচ্ছভাবে বেতন সমন্বয় করা যেতে পারে। একবার নির্ধারণ করে দেওয়া ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির বদলে মূল্যস্ফীতির বাস্তব গতির সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের ব্যবস্থা দরকার।
ঢাকা এবং অন্যান্য উচ্চ ব্যয়বহুল শহরের বাস্তব ভাড়াবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বাড়িভাড়া সূচকে যে বাস্তব বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তার তুলনায় সারা দেশে অভিন্ন ২০ শতাংশ ভাতা যথেষ্ট নয়।
সবশেষে দরকার সরকারি বেতন সংস্কার নিয়ে আরও সৎ ও স্বচ্ছ জনযোগাযোগ। শুধু নামমাত্র বেতন কত শতাংশ বেড়েছে, সেই হিসাব সামনে না এনে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কতটা বেড়েছে, সেই হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
নইলে প্রতিটি নতুন পে স্কেল ঘোষণার সময় বিজয়ের উচ্ছ্বাস তৈরি হবে, আর কয়েক বছর পর নীরবে তা হতাশায় পরিণত হবে। ঢাকার যানজটে আটকে থাকা সড়কে, যেখানে গড় যানবাহনের গতি ঘণ্টায় মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার, কিংবা যশোর ও বগুড়ার তুলনামূলক শান্ত রাস্তায়, সরকারি কর্মচারীরা বারবার একই বাস্তবতা উপলব্ধি করবেন: বেতন বাড়া আর জীবনমান উন্নত হওয়া সবসময় এক কথা নয়।
