শেখ সেলিম
প্রধান সম্পাদক, অনিকেত বুলেটিন
বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এমন একটি শিল্পের মুখোমুখি, যা একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সামাজিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিকর। জাতীয় অর্থনীতিতে তামাকের অবস্থান বৈপরীত্যময়। একদিকে এটি হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে; অন্যদিকে যে জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে এই মুনাফা অর্জিত হয়, তাদের ওপরই চাপিয়ে দেয় মৃত্যু, পরিবেশ ধ্বংস ও সামাজিক ক্ষতির আরও বিশাল বোঝা।
এই বৈপরীত্য অনুধাবন করে তা থেকে উত্তরণের পথ খোঁজাটাই আজ বাংলাদেশের সামনে অন্যতম প্রধান শাসনতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, বিশেষত যখন দেশটি ২০৪১ সালের উন্নয়ন লক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আসক্ত জাতির জনস্বাস্থ্য সংকট
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের মাত্রা উদ্বেগজনক। ২০২২ সালের জাতীয় অসংক্রামক রোগ ঝুঁকি উপাদান জরিপ (NCD-RFS) অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৩৯.৪% কোনো না কোনো আকারে তামাক ব্যবহার করেন। পুরুষদের মধ্যে এই হার ৫৪.৭% এবং নারীদের মধ্যে ২৫.৪%। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বৈশ্বিক পুরুষ ধূমপান প্রবণতা ২৮.১% ও নারীদের ক্ষেত্রে ৪.৭% বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের চিত্র অনেক বেশি উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৯ লক্ষ, এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার ২৮%, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তামাক-ভোক্তা দেশগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
এর পরিণতি ভয়াবহ। শুধু ২০১৮ সালেই তামাকজনিত কারণে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ মারা গেছেন, যা সে বছরের মোট মৃত্যুর ১৩.৫%। ২০২১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ১৩৫-এ, যা জাতীয় মৃত্যুহারের প্রায় ১২%। বর্তমানে প্রায় ১৫ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজনিত রোগে ভুগছেন এবং ১৫ বছরের কম বয়সী ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অসুস্থ।
ক্যান্সার, হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং ডায়াবেটিস, এই চারটি প্রধান অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি উপাদান হিসেবে তামাককে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিল্পটি নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বিপণন কৌশল পরিচালনা করে। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৬.৯% তামাক ব্যবহার করছে, ছেলেদের মধ্যে এই হার ৯.২%, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যের উপর আরও বড় চাপের ইঙ্গিত দেয়।
রাজস্বের বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
তামাক শিল্পের প্রধান রাজনৈতিক ঢাল হলো এর রাজস্ব অবদান। ২০২২ সালে বাংলাদেশের সিগারেট বাজারের মূল্যমান ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা (৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি), যার ৮৪.৫% বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে তামাক খাতের জিডিপিতে অবদান ছিল ২২ হাজার ৯১১ কোটি টাকা (২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার তামাক কর থেকে ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছিল।
তবে আর্থিক তথ্য-উপাত্তের গভীরে গেলে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে তামাকজনিত মৃত্যু ও রোগের মোট অর্থনৈতিক ব্যয় ছিল ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা (৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা জিডিপির ১.৪%। সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, আর অকালমৃত্যু ও অক্ষমতাজনিত উৎপাদনশীলতার ক্ষতি ছিল আরও ২২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। তামাকের জিডিপিতে অবদানের চেয়ে তার আরোপিত বার্ষিক ব্যয় ৭ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তামাক একটি ক্ষতিকর খাত।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার তামাক কর থেকে ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা পেলেও স্বাস্থ্য ব্যয় ও উৎপাদনশীলতার ক্ষতি মিলিয়ে তামাকের অর্থনৈতিক ব্যয় ছিল ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, অর্থাত ঘাটতি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এটি রাজস্বের ইঞ্জিন নয়; এটি একটি ভর্তুকি-নির্ভর বিপর্যয়।
সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে বাংলাদেশের বহুস্তরীয় মূল্য-সংযোজন কর কাঠামো, যা ধূমপায়ীদের করবৃদ্ধির পরও সস্তা ব্র্যান্ডে সহজে স্যুইচ করার সুযোগ দেয়। মাত্র ১০ টাকায় একক সিগারেট বিক্রির সুবিধা তামাককে স্কুলপড়ুয়া শিশু ও দরিদ্রতম নাগরিকদের কাছে সহজলভ্য রাখে। সরকারের নিজেরই বিটিএটিবিতে ৯% এরও বেশি শেয়ার রয়েছে, যা একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে এবং ২০২০ সালের কোভিড লকডাউনে বিটিএটিবি ও জেটিআইকে সিগারেটকে “অপরিহার্য পণ্য” হিসেবে ছাড় দেওয়ার ঘটনায় তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
পরিবেশগত মূল্য-বিস্মৃত একটি মাত্রা
বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গুরুতর পরিবেশগত পরিণতি বহন করতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। ২০২২ সালে ৪০ হাজার ৬০০ হেক্টর কৃষিজমিতে ৯২ হাজার ৩২৬ টন তামাক উৎপাদিত হয়েছে। এই জমিতে খাদ্যশস্য চাষ হতে পারত। তামাক চাষ সরাসরি বনবিনাশ, মাটির ক্ষয় ও পানি দূষণে অবদান রাখে। উত্তরাঞ্চলে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক চাষ এলাকায় আবাসস্থলের বৈচিত্র্য, প্রাণী বৈচিত্র্য ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এক দশকের তামাক চাষের পর মাটির উর্বরতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
তামাক পাতা শুকানোর প্রক্রিয়ায় বিশাল পরিমাণ কাঠ পোড়ানো হয়, যা বনবিনাশ সংকটকে আরও তীব্র করে। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় তামাক চাষ এলাকায় মাটি ও পানিতে আলদিকার্ব কীটনাশকের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই কীটনাশক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক “অত্যন্ত বিপজ্জনক” হিসেবে শ্রেণীভুক্ত এবং ১২৫টি দেশে নিষিদ্ধ।
বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৮ লক্ষ মানুষের জীবিকা মাতামুহুরী নদীর উপর নির্ভরশীল মূলত মৎস্যচাষ ও খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য। প্রতি বছর বাংলাদেশে ১৬ হাজার ২৪২ টন সিগারেটের ফিল্টার বিষাক্ত বর্জ্য হিসেবে তৈরি হয়। এগুলো প্রান্তিক বাহ্যিক ক্ষতি নয়; গ্রামীণ জনপদে নীরবে জমে ওঠা কাঠামোগত পরিবেশ ধ্বংস।
সামাজিক প্রথায় পরিবর্তন-আসছে, তবে ধীরে
পরিসংখ্যানের বাইরেও তামাক বাংলাদেশের সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ধোঁয়াবিহীন তামাক নারীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রধান ধরন। ২৮% নারী পান মসলা, জর্দাযুক্ত পান ও পান মসলা ব্যবহার করেন। লিঙ্গ, শ্রেণী ও ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে তামাক ব্যবহারের এই স্বাভাবিকীকরণ চাহিদা হ্রাসকে বিশেষভাবে কঠিন করে তোলে।
তামাক চাষ ও বিড়ি শিল্পে শিশুশ্রমের বিষয়টি একটি সুপ্রমাণিত সামাজিক সমস্যা। বাংলাদেশের বিড়ি শিল্পের কর্মীদের অন্তত অর্ধেকের বয়স ৪ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে, যারা দিনে মাত্র ৬৫ থেকে ১৩২ টাকা উপার্জন করে। এই পরিসংখ্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ২০২২ সালের শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
তামাক চাষ-নির্ভর সম্প্রদায়গুলোতে গবেষণায় দেখা গেছে যে, কিছুটা বস্তুগত উন্নতির পাশাপাশি যুবসমাজে আসক্তি, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও সম্প্রদায়ের সংহতির ক্রমাবনতি ঘটছে। এভাবে তামাক শিল্প তাৎক্ষণিক আর্থিক সুবিধা দিতে দিতে দারিদ্র্যের চক্রকে আরও দৃঢ় করে।
বাংলাদেশ, এসডিজি এবং ২০৪০ প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশের তামাক সমস্যা একাধিক জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সংযোগস্থলে অবস্থিত। যখন তামাক জাতীয় মৃত্যুর প্রতি আটটির একটি ঘটায় এবং স্বাস্থ্য বাজেটের ৮.৯% শুষে নেয়, তখন এসডিজি ৩ (সুস্বাস্থ্য ও সুস্থজীবন) সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তামাকে ব্যয় মাথাপিছু জিডিপির ৪.২% মৌলিক পারিবারিক চাহিদা থেকে সরিয়ে নিলে এবং তামাকজনিত অসুস্থতা (যেখানে স্বাস্থ্যসেবার ৭৩% খরচ পরিবারকেই বহন করতে হয়) পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যে ঠেলে দিলে, এসডিজি ১ (দারিদ্র্যমুক্তি) দুর্বল হয়ে পড়ে। বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে অসম চুক্তিচাষের আওতায় ৪০ হাজার ৬০০ হেক্টর উৎপাদনশীল কৃষিজমিতে খাদ্য নয়, অর্থকরী ফসল হিসেবে তামাক চাষ হলে এসডিজি ২ (ক্ষুধামুক্তি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বনবিনাশ, মাটির অবক্ষয় ও জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মাধ্যমে এসডিজি ১৫ (স্থলজ জীবন) লঙ্ঘিত হয়। আর শিশুশ্রম, দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকানো চাষ-চুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ এসডিজি ৮ (শোভন কর্মসংস্থান)-এর বিরোধিতা করে।
বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো কনভেনশনে (FCTC) স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ এবং ২০০৪ সালে তা অনুমোদন করেছে। ২০১৬ সালে সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখনও সামনে মাত্র চোদ্দ বছর বাকি।
ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনে একটি যুগান্তকারী সংশোধনী প্রস্তাবে ধূমপানের নির্দিষ্ট এলাকা নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, একক সিগারেট বিক্রি বন্ধ করা, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাক প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, এবং প্যাকেজিংয়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচিত্র সতর্কবার্তার আবরণ ৫০% থেকে ৯০%-এ বাড়ানোর পাশাপাশি ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমীকরণের ভারসাম্য
রাজস্ব, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সামাজিক ন্যায্যতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে হলে সরকারকে রাজস্ব ও জীবনের মধ্যে মিথ্যা দ্বিধা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সুস্পষ্ট: সুপরিকল্পিত নির্দিষ্ট আবগারি কর, যা মুদ্রাস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমাগত বাড়ানো হয়, ভোগ কমায় এবং মধ্যমেয়াদে রাজস্ব বাড়ায়। তামাকের চাহিদার মূল্য স্থিতিস্থাপকতা এক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশকে তার জটিল, শিল্পবান্ধব বহুস্তর কাঠামো ছেড়ে একটি সরলীকৃত অভিন্ন নির্দিষ্ট আবগারি কাঠামোতে যেতে হবে, যা তামাক কোম্পানির ব্র্যান্ড-বদলের ফাঁক বন্ধ করবে।
বিটিএটিবিতে সরকারের শেয়ার বিক্রি করে এবং তামাক কোম্পানির পর্ষদে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগদান নিষিদ্ধ করে স্বার্থের দ্বন্দ্ব দূর করতে হবে। এটি FCTC-এর ৫.৩ অনুচ্ছেদের বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যা বাংলাদেশ এখনো বাস্তবায়ন করেনি। ১% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ, যা বর্তমানে বছরে প্রায় ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, অবশ্যই ধূমপান ছাড়ানো সেবা, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি এবং বিকল্প ফসলে স্থানান্তরিত হতে ইচ্ছুক তামাকচাষিদের সহায়তায় নির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ করতে হবে।
তামাক চাষের উপর নির্ভরশীল এক কোটিরও বেশি গ্রামীণ পরিবারের জন্য সমাধান হলো আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং কাঠামোগত রূপান্তর। সরকারকে উন্নয়ন সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে কার্যকর বিকল্প ফসলের মডেল তৈরি করতে হবে, এবং সেটা করতে হবে একই ধরনের চুক্তিচাষ অবকাঠামো ও বাজার সংযোগ দিয়ে, যা তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ করে আসছে। এটি না করলে জনস্বাস্থ্যের অর্জন গ্রামীণ জীবিকার বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশের তামাক শিল্প প্রকাশ্যে রাজস্ব আয় করে, আর অভ্যন্তরীণ ব্যয়গুলো (তামাকজনিত রোগে হাসপাতালের ভিড়, দূষিত নদী, বিপর্যস্ত শৈশব ও অকাল মৃত্যু) প্রায়ই কম রিপোর্ট করা হয়। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা একটি জাতি এই নীরবতা চলতে দিতে পারে না। মূল প্রশ্নটি বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতার নয়। বিদ্যমান প্রমাণ বারবার ও জোরালোভাবে প্রমাণ করছে যে, ব্যর্থতার পরিণতি বহন করার সামর্থ্য এই দেশের নেই।
