শুদেব বড়ুয়া
স্বতন্ত্র কলাম লেখক
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একটি শিরোনাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশে চাকরি হারানোর সংখ্যা ৬ লাখে পৌঁছাতে পারে, দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন আরও ১২ লাখ মানুষ।’ সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি বেশি পরিচিতি পেলেও তথ্যগুলোর উৎস বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব ‘বাংলাদেশ কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’ বা সিইআরপি প্রকল্পের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত নথি। বিশ্বব্যাংকের ওই নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে আগে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার প্রত্যাশিত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ কমে যেতে পারে।
পাশাপাশি প্রায় ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই ২০২৫ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ বেড়েছিল। ২০২৬ সালে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রায় ১০ শতাংশের জন্য দায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানির বাড়তি মূল্য আংশিকভাবে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছালে মূল্যস্ফীতি আরও ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি বাড়তে পারে।
এই পূর্বাভাস সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠতেই পারে, এত বড় মাত্রার পূর্বাভাসের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা? ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির আকার ছিল প্রায় ৭ কোটি ৪৭ লাখ। সেই হিসাবে ৬ লাখ সম্ভাব্য চাকরি হারানো মোট শ্রমশক্তির প্রায় ০.৮০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৮ জন। ২০২৫ সালে কাজের জন্য বিদেশে যাওয়া ১১ লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশির তুলনায়ও এই সংখ্যা প্রায় ৫৩ শতাংশ। বিদেশে যাওয়া এসব কর্মীর প্রায় ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের বড় নির্ভরতা
বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব যে কতটা, পরিসংখ্যানেই তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রায় ৮১ শতাংশ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করেন। আবার বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৬ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন এবং ওমান থেকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চললেও রেমিট্যান্স প্রবাহ এখনো শক্তিশালী রয়েছে। ফলে তা রাতারাতি ধসে পড়বে, এমন আশঙ্কা এখনই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। বরং মূল ঝুঁকি হলো, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও পরিবহন খাতের ধাক্কা ধীরে ধীরে উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বালানি বাজারেও বড় ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতাও যথেষ্ট গভীর। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের ৫০ শতাংশের বেশি আসত গ্যাস থেকে। ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় দেশে গ্যাস উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসত মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
সংঘাত শুরুর পর পেট্রোবাংলার ৬টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির মধ্যে ৫টিকেই ‘ফোর্স মেজর’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে অক্ষম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এলএনজির খোলা বাজারের দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে প্রায় ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠে যায়, যা সংঘাতের আগে দামের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একই সময়ে মোট জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় আনুমানিক ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ব্যয় ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
এই প্রভাবের ধারাবাহিকতা খুব সহজেই বোঝা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে শুরু করে তেল ও এলএনজি সরবরাহে ব্যাঘাত, আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, মুনাফার পরিমাণ কমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন, বিনিয়োগ ও নিয়োগ কমিয়ে দেওয়া। এর সরাসরি ফল হতে পারে কর্মসংস্থান হ্রাস। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, সার ও খাদ্যের খরচও বাড়ে। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং পরিবারের প্রকৃত আয় ও ভোগের সক্ষমতা কমে যায়।
বিনিয়োগ ও শিল্প খাতেও দুর্বলতা
বেসরকারি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সামগ্রিক বিনিয়োগ বেড়েছে মাত্র ০.৮ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ০.১ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৬.৫ শতাংশে, যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূলধনী পণ্য ও যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ১০.২ শতাংশ এবং উন্নয়ন ব্যয় কমেছে ২৫.৫ শতাংশ। একই সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, যেখানে আগের দশকে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৮.৯ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে
মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানও একই ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.১ শতাংশ। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯.৭ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ শতাংশে পৌঁছায়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৩.৮ শতাংশে উঠেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বার্ষিক ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩২ শতাংশ।
অতীতের শ্রমবাজারের ধাক্কাও সতর্ক করছে
করোনাভাইরাস মহামারির সময় শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। বিশ্বব্যাংকের একটি ব্যবসা জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী সাময়িক বা স্থায়ীভাবে চাকরি হারিয়েছিলেন। একই সময়ে ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছিল।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে কাজ বন্ধ করে দেওয়া উত্তরদাতাদের প্রায় ৬৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা চাকরি হারিয়েছেন।
কমছে প্রবৃদ্ধির গতি
২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত টানা তিন বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.১ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫.৮ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪.২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক পতন
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বড় ধরনের অতিরিক্ত ধাক্কা হয়ে ওঠার আগেই বিশ্বব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলের বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৯ শতাংশ করা হয়। অর্থাৎ পূর্বাভাসে প্রায় ১৯ শতাংশ অবনতি হয়েছে।
দুর্বল অবস্থানে শ্রমবাজার
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের প্রাথমিক অবস্থাও খুব শক্তিশালী নয়। ২০২৩ সালে তরুণদের বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৮ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ। প্রায় ১৬ শতাংশ তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন না।
অন্যদিকে, ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো একাই দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশে অবদান রাখে এবং প্রায় ৫৬ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ফলে জ্বালানি, পরিবহন ও চলতি মূলধনের ব্যয় বাড়লে এই খাতের ওপর চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
সেপ্টেম্বরেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতেও জ্বালানি সরবরাহের সংকট প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার খোলা বাজারে এলএনজির দাম ছিল প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে প্রায় ২৩.২০ ডলার, যা সংঘাতের আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
৪ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৯৬ দশমিক ২৮ ডলার প্রতি ব্যারেল। এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ। আগস্ট ২০২৬-এ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় দৈনিক প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেলে। সংঘাতের আগে এই পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস নিয়ে কিছু সতর্কতাও জরুরি
তবে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে অতীতের তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ২০২০ সালের জুনে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। পরে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় প্রায় ৩.৪ শতাংশে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংক ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। পরবর্তী হিসাবগুলোতে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪.২ শতাংশ বলে উঠে আসে।
রেমিট্যান্স এখনো বড় শক্তি
বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের স্থিতিশীলতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
তাই এখন মূল প্রশ্ন হলো, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা দীর্ঘায়িত হয়। সংঘাত যদি জ্বালানি বাজারের সংকট থেকে ধীরে ধীরে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দা, প্রবাসী কর্মসংস্থানে ধাক্কা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ কমে যাওয়ার দিকে মোড় নেয়, তাহলে বাংলাদেশের ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে পারে।
৬ লাখ চাকরি কি শুধু একটি পূর্বাভাস?
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৬ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস নির্ভুল বলেই নয়। বরং দুর্বল বিনিয়োগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীরগতির প্রবৃদ্ধি এবং উপসাগরীয় শ্রমবাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাংলাদেশের ব্যাপক নির্ভরতার কারণে নতুন কোনো বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা এখন অনেকটাই সীমিত।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দ্রুত প্রশমিত হয় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মসংস্থান পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে বাংলাদেশ সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহের সংকট ও উপসাগরীয় অর্থনীতির ধীরগতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ৬ লাখ চাকরি হারানোর সংখ্যা হয়তো শুধু আলোচিত একটি শিরোনাম হয়ে থাকবে না, বরং সামনে আসতে পারে আরও বড় সংকটের আগাম সতর্কবার্তা।
