নাঈমা অনামিকা
কমিশনিং সম্পাদক, অনিকেত বুলেটিন
গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যই সম্পদ নাকি সম্পদই স্বাস্থ্য’ এই শিরোনামে প্রকাশিত ডাঃ শারমিন ভূইয়ার প্রতিবেদনটি অসাধারণ ছিল, অত্যন্ত সুন্দর ভাবে, গুছিয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তার প্রতিবেদনের একটি অংশে স্বাস্থ্য বীমার বিষয়টি উঠে এসেছে যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রসঙ্গ । খুব সঙ্গত কারণেই আমার মনে হয়েছে স্বাস্থসেবার বর্তমান দুরাবস্থা নিরসনে স্বাস্থ্য বীমা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর একারণেই এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
যেহেতু স্বাস্থ্যবীমার বিদ্যমান অবস্থা, এবিষয়ে প্রচলিত আইন,ঘাটতি, সঙ্কট, সীমাবদ্ধতা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, উন্নত দেশের নমুনা এবং অবস্থার পরিবর্তনে সম্ভাব্য প্রতিকারের পথ প্রাসঙ্গিকভাবে ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে সেহেতু আমি দুটি পর্বে প্রতিবেদনটি লিখতে চাই।
প্রথম পর্বঃ
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যগুলোর মধ্যে একটি হলো, দেশে চিকিৎসাসেবা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, রোগ নির্ণয়কেন্দ্র এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার বাজারও বড় হয়েছে; কিন্তু সেই চিকিৎসা ব্যয়ের ঝুঁকি ভাগাভাগি করার জন্য একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে অসুস্থতা অধিকাংশ পরিবারের জন্য মূলত একটি বড় বিপর্যয় এবং ব্যক্তিগত আর্থিক ঝুঁকি। স্বাস্থ্য অর্থনীতির দৃষ্টিতে এটি একটি মৌলিক সমস্যা। কারণ কখন একজন মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা যায় না। কিন্তু বড় ধরনের চিকিৎসা ব্যয় যেকোনো সময় যেকোন পরিবারের ওপর নেমে আসতে পারে।
বীমার মূল দর্শন কী?
যে কোন বীমার মূল দর্শন হলো, অনিশ্চিত ও বড় আর্থিক ঝুঁকিকে বহু মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া। স্বল্প আয়ের মানুষের সংকটময় পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপ কমিয়ে মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা। অথচ বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়নে এই ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষায়, স্বাস্থ্য অর্থায়নের মূল তিনটি কাজ হলো, অর্থ সংগ্রহ করা, ঝুঁকি ভাগাভাগি করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অর্থ পরিশোধ করা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্ন তাই হওয়া উচিত:
এত বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবা খাত সম্প্রসারিত হওয়ার পরও কেন স্বাস্থ্য ব্যয়ের ঝুঁকি ভাগাভাগি করার একটি কার্যকর বাজার তৈরি হলো না?
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশ সরাসরি রোগী বা পরিবারের নিজস্ব অর্থ থেকে আসে। ২০১৫ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৭ শতাংশ পরিবারকে নিজেদের অর্থেই চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হয়েছিল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে যা ছিল সর্বোচ্চগুলোর একটি। পরবর্তী বছরগুলোর তথ্যও সমস্যাটির কাঠামোগত চরিত্রের বড় কোনো পরিবর্তন দেখায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হয়েছে, সংখ্যায় যা প্রায় ৭ কোটি মানুষ। একই মূল্যায়নে বাংলাদেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সূচক ছিল ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৫৪। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমস্যা কেবল “চিকিৎসা ব্যয় বেশি”-এখানে শেষ নয়। আরও গভীর সমস্যা হলো, চিকিৎসার প্রয়োজন তৈরি হলে সেই ব্যয়ের ভার বহনের জন্য সহযোগী হিসেবে কোন শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা নেই।
স্বাস্থ্যবীমা কিন্তু কোনো বিলাসী আর্থিক ব্যবস্থাপনা নয়, খুব যৌক্তিকভাবেই এটি হওয়া উচিত ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। অথচ দুঃখজনকভাবে এমন একটি ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশে গড়ে ওঠেনি।
এই পর্যায়ে প্রশ্ন আসে-বাংলাদেশে কি বীমা আইন নেই?
এখানে একটি তথ্য সংযোজন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে বীমা খাতের জন্য কোনো আইন নেই, এ কথা বলা যাবে না। ২০১০ সালের বীমা আইন পুরোনো ১৯৩৮ সালের বীমা আইনকে প্রতিস্থাপন ও একীভূত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়। একই সময়ে ২০১০ সালের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন করা হয় এবং এর মাধ্যমে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়। কর্তৃপক্ষটি ২০১১ সালে কার্যক্রম শুরু করে। অর্থাৎ বাংলাদেশে সাধারণ বীমা নিয়ন্ত্রণের কাঠামো আছে।
কিন্তু স্বাস্থ্যবীমার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কেবল একটি বীমা আইন দিয়ে তৈরি হয় না। একটি কার্যকর স্বাস্থ্যবীমা বাজারের জন্য একই সঙ্গে প্রয়োজন-
স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই এবং অনুমোদনের একটি বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সেবার মূল্য নির্ধারণ ও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, মানসম্মত চিকিৎসাপদ্ধতি ও চিকিৎসা নির্দেশিকা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাপদ্ধতির অভিন্ন শ্রেণিবিন্যাস এবং রোগীর চিকিৎসা-তথ্য সংরক্ষণের জন্য নির্ভরযোগ্য ইলেকট্রনিক নথি থাকা জরুরি। পাশাপাশি বীমা দাবির সত্যতা যাচাই, প্রতারণা ও অতিরিক্ত বিল আদায় প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সেবানেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
এর পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বীমা দাবি ব্যবস্থাপনা বা অনুরূপ কার্যকর ব্যবস্থা, রোগীর অভিযোগ গ্রহণ ও বিরোধ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, স্বাস্থ্যবীমা কীভাবে কেনা হবে, এর মূল্য কীভাবে নির্ধারিত ও পরিশোধ করা হবে এবং বীমা সুবিধা কীভাবে পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যবীমার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি এবং একটি টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এমন সমন্বিত কাঠামোর বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা এখানেই! বীমা নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণকে একই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরস্পরনির্ভর দুটি অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি।
স্বাস্থ্যবীমার জন্য হাসপাতাল বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করা কেন জরুরি?
খুব গুরুত্ব পূর্ণ একটি প্রসঙ্গ এটা। একটি সাধারণ জীবনবীমা পলিসিতে বীমাকারী তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে ঝুঁকি নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্যবীমার ক্ষেত্রে বীমাকারীর ঝুঁকি নির্ভর করে চিকিৎসার প্রয়োজন, চিকিৎসার ধরন, হাসপাতালের আচরণ, চিকিৎসকের চিকিৎসা দেওয়ার ধরন, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার ব্যবহার এবং চিকিৎসার মূল্য, সবকিছুর ওপর।
ধরা যাক, একটি বীমা কোম্পানি একজন ব্যক্তিকে বছরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্যবীমা দিল। কিন্তু ওই ব্যক্তির চিকিৎসা কোন হাসপাতালে হবে, হাসপাতালে একটি নির্দিষ্ট রোগের জন্য কত টাকা নেওয়া হবে, কতগুলো পরীক্ষা করা হবে, কোন চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার সত্যিই প্রয়োজনীয়, এসব বিষয়ে যদি বীমা প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রণ বা চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ ব্যয় হিসাব করে বীমার মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, যদি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের মধ্যে মূল্য, চিকিৎসা-পদ্ধতি এবং বিল তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য থাকে, তাহলে বীমা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভবিষ্যতের দাবি বাবদ ব্যয় অনুমান করাও কঠিন হয়। ফলে স্বাস্থ্যবীমার বাজার গড়তে হলে শুধু বীমা কোম্পানি তৈরি করলেই হবে না। একটি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যসেবা ক্রয়ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও মৌলিক প্রশ্ন হলো: একজন বীমাকারী কীভাবে এমন একটি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যবীমা পণ্য তৈরি করবে, যেখানে চিকিৎসার ভবিষ্যৎ ব্যয় নির্ভরযোগ্যভাবে অনুমান করা কঠিন?
এখানে উল্লেখ করা জরুরী-স্বাস্থ্যবীমায় বীমাকারীকে তিনটি বড় ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়।
প্রথমত, প্রতিকূল ঝুঁকি নির্বাচন। যারা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি, তারাই বীমা কিনতে বেশি আগ্রহী হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আচরণগত ঝুঁকি। বীমা থাকার কারণে রোগী কিংবা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চিকিৎসা বা পরীক্ষা ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারেন। তৃতীয়ত, সেবাদাতার দ্বারা অতিরিক্ত চিকিৎসা চাপিয়ে দেওয়া ও প্রতারণা। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বেশি পরীক্ষা, চিকিৎসা-পদ্ধতি বা ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যবহারের মাধ্যমে আয় বাড়াতে পারেন।
এসব ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হাসপাতালের অনুমোদিত নেটওয়ার্ক, চিকিৎসার আগে অনুমোদন গ্রহণের ব্যবস্থা, দাবী যাচাই, চিকিৎসাগত পর্যালোচনা, দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্য এবং নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য। বাংলাদেশে এই অবকাঠামো পর্যাপ্তভাবে বিকশিত না হওয়ায় স্বাস্থ্যবীমা সহজে একটি বৃহৎ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পরিণত হতে পারেনি।
কেন শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি বীমা খাত তৈরি হয়নি ?
স্বাস্থ্যবীমা যদি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হয়, তাহলে একটি মৌলিক সমস্যা তৈরি হয়। যেমন-একজন সুস্থ তরুণ ভাবতে পারেন, আমি তো অসুস্থ নই, বীমার জন্য অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন কী? অন্যদিকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি বীমা কিনতে বেশি আগ্রহী হন।
ফলে বীমা ব্যবস্থায় অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকির মানুষ জমা হলে বীমার মূল্য বাড়তে থাকে। বীমার মূল্য বাড়লে সুস্থ মানুষ আরও বেশি সংখ্যায় বীমা থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। এভাবে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। এই কারণে অনেক দেশে স্বাস্থ্যবীমাকে কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। কোথাও করভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কোথাও সামাজিক স্বাস্থ্যবীমা, কোথাও বাধ্যতামূলক বেসরকারি স্বাস্থ্যবীমা, আবার কোথাও এসব ব্যবস্থার সমন্বিত রূপ চালু রয়েছে। বাংলাদেশে এখনো এমন একটি বৃহৎ, বাধ্যতামূলক এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ঝুঁকি ও ব্যয় ভাগাভাগি করা স্বাস্থ্যবীমা তহবিল তৈরি হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যবীমা একটি বৃহৎ সামাজিক ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা না হয়ে তুলনামূলকভাবে ছোট ও সীমিত বাজারে আটকে আছে।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাত: ভিন্ন ভিন্ন বীমার উদাহরণ
বাংলাদেশের অবস্থাটি বোঝার জন্য আন্তর্জাতিক তুলনা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে করভিত্তিক একটি বৃহৎ সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে নাগরিকের চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ ব্যক্তিগত বীমার চাঁদার ওপর নির্ভর করে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন একটি বহুমাত্রিক বীমাভিত্তিক ব্যবস্থা। চাকরিদাতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবীমা, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং ব্যক্তিগতভাবে কেনা বীমা, সবকিছু মিলিয়ে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন পরিচালিত হয়।
আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কিছু দেশে বিদেশি কর্মী ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান এই তিনটির কোনোটির মতো নয়। এখানে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো সর্বজনীন করভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা নেই; আবার সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বাধ্যতামূলক বেসরকারি স্বাস্থ্যবীমাও নেই। ফলে রাষ্ট্র, চাকরিদাতা এবং বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি বৃহৎ ও সুসংগঠিত ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। ফলাফল দাঁড়িয়েছে এমন এক ব্যবস্থায় যেখানে স্বাস্থ্যসেবা আছে, কিন্তু সেই স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের আর্থিক সুরক্ষা একই মাত্রায় নেই।
আগামী সপ্তাহে স্বাস্থ্যবীমার জরুরী আলোচনা নিয়ে থাকবে আরও একটি পর্ব, যেখানে গুরুত্বপূর্ন এবং কার্যকর কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।
