শেখ সেলিম
অনিকেত রিসার্চ গ্রুপ
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রকাশিত দুর্নীতি ধারণা সূচক বা করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্স, সংক্ষেপে সিপিআই, যতটা উদ্বেগ তৈরি করে, খুব কম আন্তর্জাতিক সূচকই ততটা করে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত এই সূচক বাংলাদেশে আলোচনার পরিসর পায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির মাধ্যমে। বিশ্বের ১৮২টি দেশে সরকারি খাতে দুর্নীতির ধারণাগত মাত্রা নির্ধারণের চেষ্টা করে এই সূচক। তবে দুর্নীতির সরাসরি ঘটনা গণনা করে নয়, বরং বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ও ব্যবসায়িক জরিপের ওপর ভিত্তি করে সূচকটি তৈরি হয়। ধারণা ও বাস্তবতার মধ্যকার এই দূরত্বই সূচকটির সবচেয়ে বড় শক্তি এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতার জায়গা।
এই লেখার লক্ষ্য সূচকটির পরিমাপ পদ্ধতি এবং তার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন নির্দেশক নিয়ে প্রশ্ন তোলা। কারণ এসব নির্দেশকের অনেকগুলোই বাস্তব দুর্নীতিকে সরাসরি পরিমাপ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সীমাবদ্ধ। সম্প্রতি বুলেটিনে প্রকাশিত একটি লেখার ধারাবাহিকতায় এই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হচ্ছে।
সূচক আসলে কী পরিমাপ করে
সিপিআই একটি সমন্বিত সূচক। বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান পরিচালিত জরিপ ও মূল্যায়ন থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে এই স্কোর তৈরি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বিশ্লেষক, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ এবং বহুপাক্ষিক সংস্থা। তাদের কাছে মূলত জানতে চাওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি খাত কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে হয়।
বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে তা ০ থেকে ১০০-এর একটি অভিন্ন স্কেলে রূপান্তর করা হয়। শূন্যের কাছাকাছি স্কোরকে অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০-এর কাছাকাছি স্কোরকে অত্যন্ত স্বচ্ছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিপিআই সরাসরি ঘুষের পরিমাণ, আত্মসাৎ করা অর্থ কিংবা দুর্নীতির মামলায় সম্পন্ন হওয়া বিচারপ্রক্রিয়া পরিমাপ করে না। বরং এটি মানুষের ধারণা বা বিশ্বাসকে পরিমাপ করে। সেই ধারণা তৈরি হয় মূলত আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মহল, ব্যবসায়িক ঝুঁকি বিশ্লেষক এবং দেশভিত্তিক পরামর্শকদের মূল্যায়নের মাধ্যমে। তাদের অনেকেরই সংশ্লিষ্ট দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আমলাতান্ত্রিক বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি অভিজ্ঞতা নাও থাকতে পারে।
ধোঁয়াশার সমস্যা
এই পদ্ধতির মধ্যেই একটি কাঠামোগত অস্পষ্টতা রয়েছে, যার সমালোচনা বহুদিন ধরে হয়ে আসছে। ধারণার ওপর নির্ভরশীল কোনো সূচক স্বভাবতই অতীতনির্ভর এবং সুনামের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনো দেশের স্কোর পরিবর্তিত হতে পারে একটি আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, সংবাদমাধ্যমের কাভারেজের পরিবর্তন কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বছরে মূল্যায়নের জন্য বাছাই করা বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তনের কারণে। অথচ সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব আচরণে হয়তো তেমন কোনো পরিবর্তনই ঘটেনি।
এর সঙ্গে আরেকটি সমস্যা রয়েছে। মূল্যায়নকারীরা আগের সংবাদ, প্রচলিত ধারণা এবং একটি দেশের দীর্ঘদিনের সুনাম দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি দেশের অঞ্চল, আয়স্তর বা প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে আগে থেকে তৈরি ধারণাও মূল্যায়নের ওপর প্রভাব ফেলে।
কোনো দেশ বাস্তব ও কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার গ্রহণ করলেও তার স্কোর দ্রুত পরিবর্তিত নাও হতে পারে। কারণ বাস্তবতার পরিবর্তনের তুলনায় মানুষের ধারণা পরিবর্তিত হতে বেশি সময় লাগে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নকারীরা সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক পরিবর্তন দেখার পর তাদের ধারণা সংশোধন করেন।
ফলে সিপিআই কোনো দেশে কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে, কোন খাতে হচ্ছে কিংবা দুর্নীতির পরিমাণ কত, তার নির্ভুল নির্ণয় হিসেবে যতটা কার্যকর, তার চেয়ে একটি সীমিত আন্তর্জাতিক মহলে ওই দেশের সুনাম বা ভাবমূর্তির একটি তাৎক্ষণিক চিত্র হিসেবে বেশি কার্যকর।
বাংলাদেশের অবস্থান এবং টিআইবির মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা
সিপিআইয়ে বাংলাদেশ ২৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে ১৩তম সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। আগের বছরের তুলনায় স্কোরে সামান্য উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার অবস্থান ১৮২ দেশের মধ্যে ১৪২তম, স্কোর ২৬।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এই তথ্যকে রাষ্ট্র পরিচালনার দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানের সীমিত স্বাধীনতার মতো বাস্তব সমস্যার দিকে টিআইবি যথার্থভাবেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তবে সিপিআইয়ের ক্ষেত্রে যে ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়, টিআইবির ভূমিকার ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই প্রয়োজন। কারণ টিআইবিও লেনদেনভিত্তিক সরাসরি তথ্যের পরিবর্তে অনেকাংশে উচ্চপর্যায়ের ধারণা ও মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি দ্রুত পরিবর্তনশীল ও নিম্ন আয়ের একটি অর্থনীতিতে দুর্নীতিকে প্রভাবিত করা কাঠামোগত জটিলতার চেয়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকটি তাদের বক্তব্যে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
টিআইবি কিংবা সিপিআই কেউই মিথ্যা কোনো চিত্র তৈরি করছে না। তবে দুটিই এমন একটি চিত্র তুলে ধরে, যা মানুষের বাস্তব অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়ে একটি দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ও ধারণাগত অবস্থানকে বেশি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়া বনাম শীর্ষ দেশগুলো
বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তান বছরের পর বছর সিপিআইয়ের নিচের দিকে অবস্থান করে। এই ধারাবাহিকতা কোনো একক কারণের ফল নয়। বরং তিন দেশের অভিন্ন কিছু কাঠামোগত বাস্তবতার প্রতিফলন।
তিন দেশেই বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি রয়েছে। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪৩ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। নাইজেরিয়ায় মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ আনুষ্ঠানিক তদারকির বাইরে থাকে। ফলে অনেক সময় টিকে থাকার প্রয়োজন থেকে পরিচালিত অনানুষ্ঠানিক লেনদেনও দুর্নীতির ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও তার পেছনে ঘুষ বা ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে।
নগদনির্ভর বাণিজ্য এবং নিবন্ধনহীন ব্যবসা অনেক সময় গোপন লেনদেনের সঙ্গে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে উদ্দেশ্য যা-ই হোক, ধারণাগতভাবে দুর্নীতির মাত্রা বেশি বলে মনে হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিন দেশেরই ঔপনিবেশিক আমল কিংবা স্বাধীনতার পরবর্তী প্রথম কয়েক দশকের প্রশাসনিক উত্তরাধিকার রয়েছে। সেই সময়ের প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থা জনসংখ্যার আকার এবং অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান জটিলতার তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থায় থেকে গেছে।
আদালতে মামলার জট বছরের পর বছর ধরে চলে। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল তাদের তদারকির আওতাধীন খাতের তুলনায় কম। সরকারি চাকরির বেতনও দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি খাতের বিকল্পের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। এসব বাস্তবতা ছোটখাটো ঘুষ থেকে শুরু করে বড় ধরনের দুর্নীতি টিকে থাকার সুযোগ তৈরি করে।
তবে একই সময়ে এই দেশগুলোর অর্থনীতিতে বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য গতিশীলতাও রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী আয়, নাইজেরিয়ার জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাত এবং পাকিস্তানের টেলিযোগাযোগ খাত দেখিয়ে দেয় যে দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি এসব দেশে কার্যকর ও জটিল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও চলছে। সিপিআইয়ের একটি সামগ্রিক স্কোরের মধ্যে এই দুই বাস্তবতাকে একই সঙ্গে ধারণ করা কঠিন। একদিকে প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে, অন্যদিকে অর্থনীতির বহু খাতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতাও তৈরি হয়েছে। শুধু একটি দুর্নীতির স্কোর দিয়ে দুই বাস্তবতার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলো নিয়মিতভাবে সূচকের শীর্ষে থাকে। তার মানে এই নয় যে এসব দেশে দুর্নীতি কোনো জৈবিক বা সাংস্কৃতিক কারণে অনুপস্থিত। বরং ছোট ও তুলনামূলকভাবে সমন্বিত জনসংখ্যা, দীর্ঘদিনের আইনের শাসনের ঐতিহ্য, দক্ষ সরকারি প্রশাসন, স্বচ্ছ সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাসম্পন্ন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী করেছে।
ফলে সেখানে বাস্তব দুর্নীতির সুযোগ কম এবং দুর্নীতি ঘটলে তা শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনার সক্ষমতাও বেশি।
শীর্ষে থাকা দেশগুলোর উচ্চ স্কোর কোনো একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল নয়। বরং বহু দশকের ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ফল। সিপিআই তাই শুধু দুর্নীতির ঘটনাকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি একটি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতার অবকাঠামোকেও পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করে। সূচককে যদি শুধু ভালো-মন্দের নৈতিক তালিকা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আড়ালে পড়ে যায়।
সূচককে কীভাবে পড়া উচিত
সব দিক বিবেচনায় নিলে একটি বিষয় পরিষ্কার। সিপিআই কোনো বানানো সূচক নয়। বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানে যে দুর্নীতির সমস্যা রয়েছে, তার বাস্তব ভিত্তি আছে এবং সেই সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা দরকার। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তার বাস্তব উদাহরণ।
তবে সিপিআইয়ের স্কোর কোনো দেশের দুর্নীতির প্রকৃত পরিমাণ কিংবা কোন খাতে দুর্নীতি বেশি, তার চেয়ে সীমিত একটি আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হওয়া সুনাম বা ধারণাকে বেশি নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত করে। বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি এবং স্বাধীনতার পর থেকে গড়ে ওঠা দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে যেসব দেশে প্রশাসনিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও সূচকটি দুর্নীতির পাশাপাশি সেই কাঠামোগত দুর্বলতার প্রভাব বহন করে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের উচিত প্রতি বছর সিপিআই প্রকাশের পর শুধু র্যাংকিংকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে তুলে না ধরা। বরং সূচক তৈরির পদ্ধতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত নিরীক্ষা, আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার এবং পরিবারভিত্তিক জরিপের মতো তথ্য দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বুঝতে আরও সরাসরি সহায়তা করতে পারে।
সরকার এবং টিআইবি উভয়েরই জনগণের স্বার্থে সিপিআইকে একাধিক সূচকের একটি হিসেবে দেখা উচিত। সূচককে বাতিল করারও প্রয়োজন নেই, আবার একে দুর্নীতির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো এবং অন্যান্য মৌলিক সংস্কারের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। এসব জায়গায় বাস্তব উন্নতি ঘটলে দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উন্নত হবে।
বাংলাদেশে দুর্নীতি বাস্তব। তবে সিপিআই সেই বাস্তবতা দেখার একটি অসম্পূর্ণ মাধ্যম মাত্র। দেশের ভেতরের আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে সূচকটি কার্যকর হতে পারে। আর একা পড়লে একই সূচক অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে বেশি বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র:
