ইফতেখার রহমান
ভারড্যান্ট গ্লোবাল
বাংলাদেশ জ্বালানি, ভোজ্যতেল, গম ও শিল্পের কাঁচামালের বড় অংশ আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পাশাপাশি দেশকে আরও একটি কম দৃশ্যমান খরচ বহন করতে হয়, যার উৎস প্রাতিষ্ঠানিক অনিশ্চয়তা। বাণিজ্য অর্থায়নে অনিশ্চয়তা, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা আমদানির ব্যয় বাড়ায়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচের বোঝা পড়ে উৎপাদক ও সাধারণ মানুষের ওপর।
সমস্যাগুলোকে সাধারণত আলাদাভাবে দেখা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটকে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, বন্দরের জটকে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পণ্যমূল্য বৃদ্ধিকে মজুতদারির ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এসব সমস্যার অর্থনৈতিক প্রভাব পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অর্থ পরিশোধে অনিশ্চয়তা সরবরাহকারীদের ঝুঁকির প্রিমিয়াম বাড়ায়, পণ্য খালাসে বিলম্ব ব্যবসার কার্যকরী মূলধন আটকে রাখে এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্ষম আমদানিকারকের সংখ্যা কমিয়ে দেয়। বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের ওঠানামা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে দেশের অভ্যন্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে সেই ওঠানামার প্রভাব যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরও তীব্র না হয়, তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাণিজ্য অর্থায়নের অদৃশ্য বাড়তি ব্যয়
ঋণপত্র বা এলসি (Letter of Credit) হলো ব্যাংকের একটি অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট পণ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী পৌঁছাবেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) UCP 600 বিধিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী নথি উপস্থাপন করা হলে ঋণপত্র ইস্যুকারী ব্যাংককে অর্থ পরিশোধ করতে হয়।¹ তবে বাস্তবে বাণিজ্য অর্থায়নের কার্যকারিতা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণযোগ্যতা, বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে তার লেনদেনের সম্পর্ক এবং অর্থ পরিশোধের নির্ভরযোগ্যতার ওপর।
২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করেছিল যে আমদানি বাবদ বকেয়া অর্থ পরিশোধে বিলম্ব বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বাণিজ্যঋণের ব্যয় বাড়াচ্ছে।² ওই মাসে বকেয়া এলসি দায়ের পরিমাণ ৪৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা কমে ২৪২ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।³ এই হ্রাস অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও বিদেশি অংশীদারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে জমে থাকা বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিষয়টি একটি সাধারণ বাণিজ্যিক হিসাব দিয়ে বোঝা যায়। অর্থায়নের ব্যয় পণ্যের মূল্যের তুলনায় এক শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়লে ১ কোটি ডলারের একটি চালানের খরচ ১ লাখ ডলার বেড়ে যাবে, অথচ পণ্যের পরিমাণ একটুও বাড়বে না। এটি কেবল একটি উদাহরণ, সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব নয়। বিদেশি ব্যাংক ঋণসুবিধা কমিয়ে দিতে পারে কিংবা ঋণপত্র নিশ্চিত করার জন্য বেশি মাশুল নিতে পারে। অন্যদিকে, সরবরাহকারীরা কম সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের শর্ত দিতে পারেন অথবা অতিরিক্ত জামানত চাইতে পারেন। এসব বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারদরে যুক্ত হয়, যদিও কোনো চালানের বিলে প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকির কারণে সৃষ্ট এই অতিরিক্ত ব্যয় আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে না।
এর প্রভাব বাজারের প্রতিযোগিতাতেও পড়ে। বড় আমদানিকারকেরা একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে ঝুঁকি কিছুটা ভাগ করে নিতে পারেন। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে সেই সুযোগ কাজে লাগানো অনেক কঠিন। নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অর্থায়ন যখন সীমিত হয়ে পড়ে, তখন বাজারে টিকে থাকার সুযোগ ক্রমেই আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ঝুঁকে যায়। ফলে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত বাজারের কাঠামোগত সমস্যায় রূপ নেয়।
সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতায় সংকটের তীব্রতা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা অপরিহার্য। ব্যবসায়ী, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, জাহাজ চলাচলের প্রতিনিধি ও পাইকারি বিক্রেতারা পণ্য পরিবহন, মজুতের অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ নানা প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকেন। সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন তাঁদের মুনাফার বড় অংশ উৎপাদনশীল সেবার বদলে বৈদেশিক মুদ্রা, প্রশাসনিক অনুমোদন কিংবা বাজারসংক্রান্ত তথ্যের ওপর বিশেষ সুবিধাজনক প্রবেশাধিকারের কারণে তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও দেশের খুচরা মূল্যের পার্থক্য দেখেই অতিরিক্ত মুনাফা বা কারসাজির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অযৌক্তিক মুনাফা শনাক্ত করার আগে বিনিময় হার, শুল্ক, পরিবহন, অর্থায়ন, গুদামজাতকরণ ও বিতরণ ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে।
বন্দরের অদক্ষতা এসব ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমসের পরিচালিত পণ্য খালাসের সময়সংক্রান্ত এক সমীক্ষার ফল অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। সেখানে পণ্য খালাসে গড় সময় প্রায় ১১ দিন ৬ ঘণ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে কনটেইনারজাত আমদানিপণ্য খালাসে ১৩.২ দিন লাগার কথা বলা হয়। ২০২২ সালে এই সময় ছিল ১১.৩ দিন।⁴ পরিসংখ্যান দুটির পরিধি ও পরিমাপপদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। পণ্য খালাসে বিলম্বের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়া নিয়েও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছে।⁵
দায় নিয়ে মতভেদ থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য খালাসের আর্থিক ক্ষতি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমদানিকারকদের এমন পণ্যের পেছনে অর্থায়ন চালিয়ে যেতে হয়, যা বিক্রি করে তখনো আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদনকারীদের বাড়তি মজুত রাখতে হয়, ফলে উৎপাদন সম্প্রসারণের মতো কাজে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন আটকে যায়। বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত হলে সরবরাহের বিঘ্নকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রাখার সুযোগও নিতে পারে। প্রকৃত যানজট বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সৃষ্ট বিলম্ব এবং পরিকল্পিত মজুতদারি এক বিষয় নয়। বাজার কারসাজির অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে মজুতের ওপর নিয়ন্ত্রণ, যোগসাজশ কিংবা অযৌক্তিকভাবে সরবরাহ সীমিত করার মতো আচরণের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
বাণিজ্যিক অদক্ষতা থেকে অর্থনৈতিক ঝুঁকি
আমদানিসংক্রান্ত বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব কোনো একটি চালান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়লে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়ে। কাঁচামাল দেরিতে পৌঁছালে কারখানার উৎপাদনসূচি ব্যাহত হয়। খাদ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পড়ে।
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির চিত্র এই দুর্বলতার দিকটি স্পষ্ট করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৯.১৬ শতাংশে।⁶ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মূল্যায়নেও ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার বিষয়টি উঠে আসে।⁷
আমদানি ব্যবস্থার অদক্ষতাই মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ, এমন দাবি করা ঠিক হবে না। বিনিময় হারের পরিবর্তন, মুদ্রানীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহের বিঘ্নও মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। তবে আমদানি ও বাণিজ্য পরিচালনার কাঠামোগত ব্যয় মূল্যচাপ আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমলেও সেই স্বস্তি দেশের বাজারে পৌঁছানোর গতি মন্থর করে দিতে পারে। এর ফলে অর্থনীতি দ্বিমুখী ক্ষতির মুখে পড়ে। একদিকে ভোক্তাদের দক্ষ সরবরাহব্যবস্থায় যে দাম দিতে হতো, তার চেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়। অন্যদিকে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর বদলে অনিশ্চয়তা সামাল দিতে সীমিত মূলধনের বড় অংশ ব্যয় করে।
করণীয় ও নীতিগত পদক্ষেপ
সংস্কারের শুরু হতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং পরিমাপযোগ্য কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এলসি নিষ্পত্তির তদারকি জোরদার করা এবং অর্থ পরিশোধের নির্ভরযোগ্যতা বোঝার জন্য উপযুক্ত সূচক নিয়মিত প্রকাশ করা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উচিত পণ্য খালাসের প্রতিটি ধাপে কত সময় লাগছে, তার হিসাব রাখা। আগাম নথি যাচাই, ঝুঁকির ভিত্তিতে পণ্য পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদনপ্রক্রিয়াকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো সম্ভব।
প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোরও উচিত প্রমাণযোগ্য যোগসাজশ ও প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। বৈধ ব্যবসায়িক মুনাফাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি স্বচ্ছ আমদানি ব্যয়ভিত্তিক মানদণ্ড তৈরি করা যেতে পারে। সেখানে বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয়, শুল্ক, অর্থায়ন এবং দেশের অভ্যন্তরে বিতরণ ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। এমন বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনিবার্য বাণিজ্যিক ব্যয় ও সম্ভাব্য অতিরিক্ত মুনাফার মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশের আমদানি ব্যবস্থা অর্থনৈতিক পরিচালনায় একটি মৌলিক দুর্বলতা সামনে এনেছে। প্রাতিষ্ঠানিক অনিশ্চয়তার ব্যয় বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে মিশে থাকে, অথচ অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব আলাদাভাবে খুব কমই পরিমাপ করা হয়। এই ব্যয় শুধু ভোক্তামূল্য বাড়ায় না, বাজারে প্রতিযোগিতা দুর্বল করে, উৎপাদনশীল মূলধন আটকে রাখে এবং বহিরাগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।
সংস্কারের সাফল্য বিচার করতে হবে দুটি প্রশ্নের ভিত্তিতে: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগের চেয়ে বেশি নিশ্চয়তার সঙ্গে লেনদেন করতে পারছে কি না এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমলে দেশের বাজারেও সেই স্বস্তি দ্রুত পৌঁছাচ্ছে কি না। এই ব্যবধান কমাতে প্রয়োজন ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সাময়িক প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শুধু কী আমদানি করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে না। আমদানি করা পণ্য কতটা দক্ষতার সঙ্গে দেশের বাজারে পৌঁছাতে পারছে, তার ওপরও নির্ভর করে।
তথ্যসূত্র
- International Chamber of Commerce, Uniform Customs and Practice for Documentary Credits, ICC Publication No. 600 (Paris, 2007), Articles 2, 7 and 14.
- Bangladesh Bank, Foreign Exchange Policy Department, ‘Timely Settlement of Import Payments’, FE Circular No. 30 (Dhaka, 12 November 2024).
https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/fepd/nov122024fepd30e.pdf
- ‘BB Again Asks Banks to Clear Overdue LC Payments’, The Daily Star (13 April 2025).
- Mizanur Rahman Yousuf, ‘Pay $48 More for a Container as Cargo Clearance Time Drags on to 11 Days’, The Business Standard (12 October 2026).
- Mohammad Suman, ‘Ctg Port Clearance Slows as Post-Declaration Delays Double’, The Daily Star (22 October 2026).
- ‘CPA Disputes NBR Study on 11-Day Cargo Clearance Time’, The Business Standard (21 October 2026).
- ‘Inflation Remains Above 9% for Third Straight Month’, The Business Standard (6 July 2026), reporting Bangladesh Bureau of Statistics data.
- International Monetary Fund, Bangladesh: 2025 Article IV Consultation, IMF Country Report No. 26/024 (Washington, DC, January 2026).
