ফারাহ জেহির
সম্পাদক, অনিকেত রিসার্চ গ্রুপ
বাংলাদেশের বেসরকারি বিদ্যালয় খাত দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষার দায়িত্ব বহন করছে। নগরাঞ্চলের উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য পরিচালিত ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় থেকে শুরু করে সরকারি বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শিক্ষার্থীসংখ্যা বা দুর্বল শিক্ষার মানের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা হাজারো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত এই খাতের বিস্তৃতি ব্যাপক। অথচ এই খাত এমন একটি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বিদ্যালয়ের ফি কাঠামো বা ভবনের অনুমোদনের তুলনায় শিক্ষক ও প্রশাসকদের যোগ্যতা অনেক কম পর্যালোচনার মুখোমুখি হয়। বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসকদের জন্য বাধ্যতামূলক এবং কার্যকর শিক্ষাগত সনদায়নের অনুপস্থিতি কোনো সামান্য প্রশাসনিক ঘাটতি নয়। এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার মান, শিশুকল্যাণ এবং বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।
তবে বিষয়টি শুধু শিক্ষকতার যোগ্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বেসরকারি ও ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যাদের অনেকেই নিজেদেরকে “আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম” অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ জননীতিগত প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এই পাঠ্যক্রমগুলো কতটুকু স্বাধীনভাবে পর্যালোচিত, স্বীকৃত বা সরকারি পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে? বহু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাকাঠামো অনুসরণের দাবি করলেও, সেগুলো জাতীয় শিক্ষাগত অগ্রাধিকার, ভাষাগত দক্ষতা, নাগরিক শিক্ষা কিংবা বাংলা মাধ্যম শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম শিক্ষাগত মানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়ে জনপরিসরে খুব কম আলোচনা হয়। একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল প্রতিষ্ঠানের দাবির ওপর নির্ভর করতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা।
যোগ্যতার ঘাটতি ও এর পরিণতি
মৌলিক পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষকতার যোগ্যতা পরিমাপ করলে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন অবস্থানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। গবেষণায় দেখা যায়, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের মাত্র প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষক ন্যূনতম যোগ্যতার মান পূরণ করেন। তুলনামূলক জাতীয় পরিসংখ্যানে এটি বাংলাদেশকে নিম্নতম অবস্থানের দিকে ঠেলে দেয়। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় নিয়ন্ত্রক তদারকি ঐতিহাসিকভাবেই দুর্বল, সেখানে অপ্রশিক্ষিত ও সনদবিহীন শিক্ষকের হার আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বাস্তবতা একটি কঠিন কিন্তু অপরিহার্য প্রশ্ন উত্থাপন করে। দেশের অনেক বেসরকারি ও ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার জন্য আসলে কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন? সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত শিক্ষকদের নির্দিষ্ট একাডেমিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ অর্জন করতে হয়। কিন্তু বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের মানদণ্ড এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটি পেশাগত শিক্ষকতার দক্ষতার সমার্থক নয়। ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারা কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য কিংবা শিশুবিকাশ কার্যকরভাবে শেখানোর যোগ্য করে তোলে না। শিক্ষকতা একটি বিশেষায়িত পেশা, যার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, শিক্ষণতাত্ত্বিক জ্ঞান, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং বয়সভিত্তিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সঠিক বোঝাপড়া।
এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়। ২০২৪ সালের একটি বেসলাইন গবেষণায় দেখা গেছে, মূল্যায়নকৃত জেলাগুলোতে পঞ্চম শ্রেণির মাত্র ১০ থেকে ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী মূল বিষয়গুলোতে প্রত্যাশিত শিক্ষাগত ফল অর্জন করতে পেরেছে। যদিও এই পরিস্থিতির পেছনে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কারণ রয়েছে, তবুও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদানের মান অন্যতম প্রধান নির্ধারক। যেসব শিক্ষক আনুষ্ঠানিক শিক্ষণ প্রশিক্ষণ পাননি, তাঁরা হয়তো বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান রাখেন; কিন্তু সেই জ্ঞানকে কার্যকর পাঠদানে রূপান্তর করা, শিক্ষার্থীর শেখার সমস্যা চিহ্নিত করা বা একই শ্রেণিতে ভিন্নধর্মী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পদ্ধতি পরিবর্তন করা তাঁদের পক্ষে অনেক সময় সম্ভব হয় না।
আরও উদ্বেগজনক একটি বিষয় হলো ব্যক্তিগত কোচিং ও অতিরিক্ত টিউশনের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা। ব্যয়বহুল বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বহু শিক্ষার্থীর পরিবার বিদ্যালয়ের ফি পরিশোধের পাশাপাশি কোচিং ও ব্যক্তিগত টিউশনের পেছনেও বিপুল অর্থ ব্যয় করে। এতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তৈরি হয়। যদি শিক্ষকরা যথাযথভাবে যোগ্য হন এবং বিদ্যালয়গুলো তাদের ঘোষিত শিক্ষাসেবা কার্যকরভাবে প্রদান করে, তবে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী কেন অতিরিক্ত কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল? কিছু ক্ষেত্রে কোচিং সম্পূরক শিক্ষার ভূমিকা পালন করতে পারে, কিন্তু এর ব্যাপক বিস্তার ইঙ্গিত দেয় যে অনেক ক্ষেত্রেই শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।
সনদায়নের পক্ষে যুক্তি
শিক্ষাগত সনদায়নের গুরুত্ব কেবল একটি আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষকদের জন্য এটি এমন একটি পেশাগত ভিত্তি তৈরি করে, যা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার পাশাপাশি শিশু কীভাবে শেখে, কীভাবে পাঠ পরিকল্পনা করতে হয়, কীভাবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে অগ্রগতি নিরূপণ করতে হয় এবং কীভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে কাঠামোবদ্ধ জ্ঞান প্রদান করে। এই ভিত্তি ছাড়া শিক্ষাদান প্রায়ই মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি দুর্বল শিক্ষার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
একটি সনদপ্রাপ্ত শিক্ষকসমাজ শিক্ষা ব্যবস্থার সব ধারার জন্য অভিন্ন পেশাগত মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী সরকারি বিদ্যালয়ে, বেসরকারি বাংলা মাধ্যমে বা ইংরেজি মাধ্যমে যেখানেই পড়ুক না কেন, অভিভাবকদের প্রত্যাশা করার অধিকার রয়েছে যে প্রতিটি শিক্ষক জাতীয়ভাবে স্বীকৃত একটি ন্যূনতম দক্ষতার মান পূরণ করেছেন। শিক্ষাদানের ভাষা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাগত মান ভিন্ন হওয়া উচিত নয়।
প্রশাসকদের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। যে কোনো বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা পরিচালক যদি বিদ্যালয় পরিচালনা, পাঠ্যক্রম তদারকি, কর্মী মূল্যায়ন বা শিক্ষার্থী সুরক্ষা বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না পান, তবে তিনি একটি মানসম্পন্ন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত নন। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় জ্যেষ্ঠতা, মালিকপক্ষের ঘনিষ্ঠতা বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে, পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে নয়। এর ফলে এমন একটি ব্যবস্থাপনা সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে শিক্ষার মান ও শিক্ষক উন্নয়নের চেয়ে ভর্তি সংখ্যা এবং ফি আদায় অধিক গুরুত্ব পায়।
পাঠ্যক্রমের প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেসব বিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্রম অনুসরণের দাবি করে, তাদের সেই শিক্ষাক্রমের স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হওয়া উচিত। পাশাপাশি সেগুলো কীভাবে জাতীয় শিক্ষাগত লক্ষ্য ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষা খাতের সব ধারায় পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সক্ষমতা অর্জন করা। অভিভাবকদের জানার অধিকার রয়েছে, তাঁদের সন্তানেরা কী শিখছে, সেই পাঠ্যক্রম কে প্রণয়ন করেছে, কোন শিক্ষাগত কাঠামোর অধীনে তা পরিচালিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের অর্জন কীভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
সনদায়ন এমন এক জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করে, যা বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। যখন একজন শিক্ষক স্বীকৃত পেশাগত যোগ্যতা অর্জন করেন, তখন তাঁর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার ক্ষেত্রে পেশাগত অবস্থান পুনর্বিবেচনার একটি ভিত্তি তৈরি হয়। সনদায়ন ছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো প্রায়ই এমন এক বন্ধ ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যেখানে মানদণ্ড নির্ধারণ করেন প্রতিষ্ঠানের মালিক বা পরিচালকেরা, আর শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য স্বাধীন পেশাগত সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে না।
এই আলোচনার সঙ্গে ব্যক্তিগত টিউশন ব্যবস্থার প্রশ্নও যুক্ত। নীতিনির্ধারকদের বিবেচনা করা উচিত, কোনো শিক্ষক তাঁর নিজস্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগত পাঠদান করতে পারবেন কি না এবং সে ক্ষেত্রে কী ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। যদি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যকর, স্বচ্ছ ও পেশাদার মানসম্পন্ন হয়, তবে অতিরিক্ত টিউশনের প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার কথা। বিদ্যালয়ের শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত টিউশনের সম্পর্ককে বৃহত্তর শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে গুরুত্বসহকারে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সংস্কারের রূপরেখা
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতি শিক্ষক পেশাগত উন্নয়নের জন্য সনদভিত্তিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব স্বীকার করে, এবং সরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছেন। এখন সময় এসেছে বেসরকারি বিদ্যালয় খাতকেও একই কাঠামোর আওতায় আনার। শিক্ষক নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের নিবন্ধন নবায়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষক সনদ বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সঙ্গে প্রশাসকদের জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শিক্ষাপ্রশাসন বা শিক্ষানেতৃত্ব বিষয়ে স্বীকৃত যোগ্যতা অর্জনের বিধান থাকা প্রয়োজন।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি সমন্বিত শিক্ষাগত তদারকি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি বিদ্যালয়, বেসরকারি বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম এবং অন্যান্য শিক্ষাধারাকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন, যা পাঠ্যক্রমের মান, শিক্ষক সনদায়ন, শিক্ষার্থী সুরক্ষা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। এর অর্থ এই নয় যে সব বিদ্যালয়ে একই পাঠ্যবস্তু পড়ানো হবে; বরং এর উদ্দেশ্য হলো সব শিক্ষার্থীকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হওয়া উচিত শিক্ষাদানের ভাষা ও বিশেষায়িত কর্মসূচি, পেশাগত জবাবদিহিতার মান নয়।
পেশাগত সনদায়ন কোনো আমলাতান্ত্রিক বোঝা নয়। এটি সেই ন্যূনতম যোগ্যতার মান, যা বাংলাদেশের প্রতিটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে পাওয়ার অধিকার রাখে। যে শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদ দাবি করে কিন্তু শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা করে না, সেই ব্যবস্থার অগ্রাধিকারবোধ নিঃসন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ। একইভাবে, যে রাষ্ট্র শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাব্যবস্থাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু পাঠ্যক্রম তদারকি, শিক্ষক যোগ্যতা এবং শিক্ষাগত জবাবদিহিতা বিষয়ে মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তরহীনতা মেনে নেয়, সে রাষ্ট্র নিজেই শিক্ষাগত উৎকর্ষতার ভিত্তিকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করে।
