শেখ সেলিম
প্রতিটি ভর্তি মৌসুমে শহর ছেয়ে যায় ব্যানারে। সেখানে প্রতিশ্রুতি থাকে বিশ্বমানের, বৈশ্বিক স্বীকৃতির, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আর সোনালি ভবিষ্যতের। এই প্রচারের খরচ ওঠে সেইসব পরিবারের দেওয়া টিউশন ফি থেকে, যাদের প্রতারিত হওয়ার সামর্থ্য নেই। আমরা মনে করি, এসব পরিবার বিলবোর্ডের চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার অধিকার রাখে। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে কীসের জন্য, সেগুলো কারা চালায়, আর তাদের বহুপ্রচারিত অর্জন বিজ্ঞাপনের দাবি অনুযায়ী সত্যিই কিছু বোঝায় কি না, এ নিয়ে একটি গুরুতর আলোচনাও দেশের প্রাপ্য।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মকথা
শুরুতেই ন্যায্য কথাটা বলা দরকার। রাষ্ট্র চাহিদা মেটাতে পারেনি বলেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সব যোগ্য আবেদনকারীর জায়গা হয় না, আর যে পরিবারগুলো বেসরকারি ক্যাম্পাসের দিকে ঝুঁকেছে, তারা নির্বোধ ছিল না। তারা চেয়েছে নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়া সেশন, ইংরেজিতে পাঠদান এবং চাকরিদাতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এগুলো ন্যায়সংগত চাওয়া, এবং খাতটি কিছুটা হলেও তা পূরণ করেছে। এই লেখার কোনো কথাকেই সেখানে সততার সঙ্গে কাজ করা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসকদের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে পড়া চলবে না। আমাদের আপত্তি তাঁদের ঘিরে থাকা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
গবেষণার ঘাটতি
একটি প্রতিষ্ঠান সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয়, নাকি উচ্চাভিলাষী শিক্ষণ কলেজ, তার সবচেয়ে স্পষ্ট পরীক্ষা গবেষণা। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনত অলাভজনক হলেও চলে টিউশন ফিতে, আর সে আয় বাড়ে ভর্তির সংখ্যার সঙ্গে, আবিষ্কারের সঙ্গে নয়। তাই বিচক্ষণ ব্যবস্থাপকেরা শিক্ষার্থী বাড়ান এবং খরচ কমান। গবেষণার ফল আসে ধীরে, কখনো আসেই না। শিক্ষকেরা স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে ভারী পাঠদানের বোঝা বহন করেন, ল্যাবরেটরি অপ্রতুল, ডক্টরাল কর্মসূচি বিরল, আর জীবিকার তাগিদে শিক্ষকদের ছুটতে হয় এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে। যাঁর ভাবার সময় নেই, তাঁর হাতে প্রকাশনা বা প্রভাব তৈরি হয় না।
এখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও নৈতিক উচ্চাসনে বসে নেই, আর আমরা তাদের তোষামোদ করব না। সেখানে আছেন প্রবীণ গবেষক, পুরোনো ল্যাবরেটরি আর সমৃদ্ধ আর্কাইভ। কিন্তু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সেশনজট, স্থবির বাজেট এবং জবাবদিহিকে গুজব ভাবার সংস্কৃতি তাদের ভারাক্রান্ত করে রেখেছে। দুই খাতের প্রতিযোগিতা অদ্ভুতভাবে একপেশে। সেবা ও সময়ানুবর্তিতায় এগিয়ে বেসরকারিগুলো, আর গবেষণার সুনাম ও গভীরতায় এখনো এগিয়ে সরকারিগুলো (যদিও এ ধারণার প্রমাণ বা বিরোধিতা কমই দেখা যায়)। তরুণদের যে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা পাওয়ার কথা, কোনো পক্ষই তা দিতে পারছে না।
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে, এমন নয়। দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গড়া একটি শক্তিশালী শিক্ষণকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি সম্মানজনক। দোষ সেখানে, যেখানে গবেষণায় প্রায় কিছুই বিনিয়োগ না করে গবেষণার কৃতিত্ব দাবি করা হয়।
র্যাঙ্কিংয়ের মরীচিকা
সর্বশেষ কিউএস তালিকায় বিশ্বজুড়ে র্যাঙ্ক পেয়েছে ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, তার মধ্যে বাংলাদেশের মাত্র তেরোটি। দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি আছে ৯০১-৯৫০ ব্যান্ডে, অন্য বেসরকারিগুলো পড়েছে ১০০১ থেকে ১২০০ কিংবা ১৪০১-এর ওপরের গোষ্ঠীতে, আর দেশের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায়ই নেই। তালিকায় নাম ওঠা সামান্য অর্জন, এবং কোনো সতর্ক পাঠকের উচিত নয় একে শিক্ষার উৎকর্ষের প্রমাণ ভাবা।
এসব তালিকায় হিসাব হয় সুনাম জরিপ, নিয়োগদাতার মতামত, উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক অনুপাত ও স্নাতকদের কর্মসংস্থান। কিন্তু সুনাম জরিপ আগে থেকে পরিচিতদেরই পুরস্কৃত করে, আর খ্যাতি নিজেই নিজেকে খাওয়ায়। কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান উজ্জ্বল দেখাতে পারে কেবল এ কারণে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি এমন শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে, যাদের পরিবারের যোগাযোগই চাকরি জোটায়। আন্তর্জাতিক অনুপাত ফুলিয়ে তোলা যায় নিয়োগ অভিযান দিয়ে, যা শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানায় না। এসব সূচকের কোনোটিই বলে না, একজন স্নাতক যুক্তি দিতে পারে কি না, স্পষ্ট লিখতে পারে কি না, কিংবা আগে কখনো না দেখা সমস্যার সমাধান করতে পারে কি না।
একটি নির্দিষ্ট অবস্থানের নিচে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট ক্রমে না সাজিয়ে প্রশস্ত ব্যান্ডে ভাগ করা হয়। তাই বহুপ্রচারিত কোনো উল্লম্ফন হয়তো কয়েকটি স্কোরের সামান্য নড়াচড়া, কিংবা অন্যদের পিছিয়ে পড়ার ফল। আশপাশের সবাই নেমে গেলেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় ওপরে উঠতে পারে। অর্থনীতিবিদেরা একে বলেন গুডহার্টের সূত্র, আর প্রতিটি ক্যাম্পাস-ব্যবস্থাপকের উচিত এটি দেয়ালে বাঁধিয়ে রাখা। র্যাঙ্কিং যখন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, আচরণ তার সূচকের দিকে বেঁকে যায়: উদ্ধৃতি চাষ হয়, জরিপে সাড়া দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়, অনুপাত মেলাতে বিদেশি শিক্ষার্থী আনা হয়। স্কোর বাড়ে, কিন্তু শেখা না-ও বাড়তে পারে।
এরপর আছে অর্থের বিনিময়ে স্টার-রেটিং নিরীক্ষা, যেখানে প্রতিষ্ঠান টাকা দিয়ে নিজের সুযোগসুবিধা ও কর্মসূচির মূল্যায়ন করায়। প্রায়ই এগুলোকে স্বাধীন র্যাঙ্কিং বলে প্রচার করা হয়, আর পোস্টার দেখা পরিবারগুলোকে পার্থক্যটা বুঝিয়ে বলা হয় কমই। আবেদনকারীরা পাঠদানের মান সরাসরি দেখতে পায় না, তাই তারা নির্ভর করে নানা সংকেতের ওপর, আর প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থই হলো সস্তায় অনুকূল সংকেত বানিয়ে নেওয়া।
বেসরকারি উদ্যোগে দেওয়া “শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার”-ও একই কায়দায় চলে, আর এখন সেগুলো লক্ষ্যভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন হয়ে অহরহ সামনে আসে। এমন কোনো প্রস্তাব এলে আগে জিজ্ঞেস করুন, প্রকৃত কৃতীদের ভিড়ে পুরস্কারের জন্য আপনাকেই কেন বেছে নেওয়া হলো। বাংলাদেশের অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একই পদ্ধতিতে র্যাঙ্কিং-সাফল্য কিনে নেয়, খেলাটা কীভাবে সাজানো তা ভালো করে জেনেই, এবং সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনই প্রায়ই একমাত্র আসল অর্জন।
র্যাঙ্কিং মূল্যহীন নয়। এগুলো প্রকৃত দুর্বলতা উন্মোচন করতে পারে, আর গবেষণা উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বল ফল একটি সৎ সতর্কবার্তা, যা কানে তোলা উচিত। কিন্তু থার্মোমিটার তো চিকিৎসা নয়। র্যাঙ্কিং যখন বিজ্ঞাপনের প্রধান দাবি হয়ে ওঠে, তখন তা শিক্ষার আগে রাজস্বের সেবা করে।
পরিচালনা ও পৃষ্ঠপোষকতার (অপ)সংস্কৃতি
আইনে ট্রাস্টি বোর্ড থাকা বাধ্যতামূলক, অথচ অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড লেটারহেডওয়ালা পারিবারিক জমায়েতের বেশি কিছু নয়। উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার নিয়োগে ট্রাস্টিদের হাতই সবচেয়ে বড়। বাজেট, ফি আর উদ্বৃত্ত ঠিক হয় এমন কক্ষে, যেখানে শিক্ষকদের প্রবেশাধিকার নেই। আত্মীয়স্বজন ভরে ফেলেন প্রশাসনের শীর্ষ পদ, নিয়োগ চলে আনুগত্যের ভিত্তিতে, আর মালিকের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষক অচিরেই টের পান ভিন্নমতের দাম কত। যাঁরা শিক্ষা দেন, তাঁদের হাতে এমন কোনো ক্ষমতা নেই যাতে শিক্ষা থেকে যাঁরা মুনাফা করেন, তাঁদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা যায়।
প্রতিষ্ঠাতাদের প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতেই হবে। খাতটি যখন জুয়ার মতো ছিল, তখন অনেকে দূরদৃষ্টি, পুঁজি ও জেদি বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠাতার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের বিপরীতে নেওয়া ঋণ, যা শোধ করতে হয় নিয়মকানুনের মাধ্যমে। পরিণত বিশ্ববিদ্যালয় তার নির্মাতার বিদায়েও টিকে থাকতে পারে। যেখানে প্রতিষ্ঠাতাই প্রতিষ্ঠান হয়ে বসে আছেন, সেখানে প্রতিষ্ঠানের জন্ম এখনো হয়নি।
সরকারি খাতেরও আত্মতৃপ্ত হওয়ার কারণ নেই। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসকদের প্রায়ই বেছে নেওয়া হয়েছে পাণ্ডিত্যের বদলে রাজনৈতিক আনুগত্য দেখে, দলীয় লাইন ধরে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃষ্ঠপোষক মালিক, সরকারিতে দল। কৌশল একই: যোগ্যতা হার মানে আনুগত্যের কাছে, ভিন্নমতের শাস্তি হয়, আর একাডেমিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়।
সমাজবিজ্ঞানীরা একে বলেন প্রাতিষ্ঠানিক অভিসারিতা, অর্থাৎ একই আবহাওয়ায় থাকা সংগঠনগুলোর একই অভ্যাস গ্রহণের প্রবণতা, মন্দ অভ্যাসসহ। আমরা একে বলি প্রকাশ্যে লুকিয়ে থাকা কেলেঙ্কারি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা
আইন করে মালিকানা ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা আলাদা করা উচিত, বোর্ডে পরিবারের প্রতিনিধিত্বের সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত, শীর্ষ পদে নিয়োগে উন্মুক্ত ও মেধাভিত্তিক অনুসন্ধান কমিটি বাধ্যতামূলক করা উচিত, এবং নির্দিষ্ট মেয়াদকে খেয়ালখুশির বরখাস্ত থেকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। একই নিয়ম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরও বর্তাতে হবে। যে সংস্কার শুধু বেসরকারি খাতকে শৃঙ্খলায় বাঁধে, তা যেমন অন্যায্য, তেমনি অকার্যকর, এবং মন্ত্রণালয়ের সাহস থাকা উচিত সেটা বলার।
নিরীক্ষিত হিসাব, ফি কাঠামো, শিক্ষকদের বেতনকাঠামো এবং আয়ের কত অংশ পাঠদান, গবেষণা ও বৃত্তিতে খরচ হয়, সবই নিয়মিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। উদ্বৃত্ত পুনর্বিনিয়োগ হতে হবে বলবৎযোগ্য নিয়মের অধীনে, আইন যে অলাভজনক নীতি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে তার সঙ্গে সংগতি রেখে। বিজ্ঞাপনও নজরদারির আওতায় আনা দরকার। অর্থের বিনিময়ে পাওয়া রেটিং কোনোভাবেই স্বাধীন র্যাঙ্কিং বলে জনগণের কাছে বিক্রি করা চলবে না।
একটি অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থা প্রকাশিত মানদণ্ডের বিপরীতে কর্মসূচিগুলো মূল্যায়ন করবে: শিক্ষকদের যোগ্যতা, শিক্ষার্থীদের অর্জন, গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যাদের নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের হাতে সহজেই জিম্মি হয়ে পড়ে। ঠিক সে কারণেই এই সংস্থার নিয়োগ, বাজেট ও সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং আইন দিয়ে সুরক্ষিত হতে হবে।
সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত, সহকর্মী-পর্যালোচনায় নির্ধারিত প্রতিযোগিতামূলক অনুদান দেশের বিদ্যাচর্চায় র্যাঙ্কিং নিয়ে হাজারটা উদ্যাপনের চেয়ে বেশি কাজ করবে। ডক্টরাল প্রশিক্ষণ ও যৌথ ল্যাবরেটরিতে সহায়তা সেই ব্যয়ের বাধা কমাবে, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল পাঠদানের দিকে ঠেলে দেয়।
দক্ষতা, শিল্প ও মুক্ত মন
শিল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য জরুরি। প্রতিটি শিক্ষাবিদ পরামর্শ দেন, বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রম প্রণয়নে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কাজ করবে। কাজ করবে কাঠামো ও ইন্টার্নশিপ নিয়ে, আর স্নাতকদের বছরের পর বছর অনুসরণ করবে। কিন্তু যে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আজকের চাকরির বাজারের জন্য তৈরি করে, সে শিক্ষার্থীদের অপ্রচলিত হয়ে পড়ার জন্যই প্রস্তুত করে, কারণ প্রযুক্তি বদলায় পাঠ্যক্রমের চেয়ে দ্রুত।
বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ তাঁদের ব্যবস্থাপত্রে যা যোগ করতে ভুলে যান, তা হলো স্নাতকের গুণাবলি গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষটিকেও গড়তে হয়। দর্শন, নীতিশাস্ত্র, ইতিহাস, যুক্তিবিদ্যা ও নাগরিক বিচারবোধ মুখস্থের বদলে তর্কের মধ্য দিয়ে শেখালে কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার, প্রমাণ ওজন করার এবং প্রভাবিত হতে অস্বীকার করার অভ্যাস তৈরি হয়। প্রতিটি স্নাতকের থাকা উচিত এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। এটা কোনো আদর্শিক প্রকল্প নয়, মুক্ত মনের সাধারণ সরঞ্জাম, আর যে জাতি নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুগত্য ও ভয়ের হাতে দখল হতে দেখেছে, তার কাছে এর মূল্য অন্যদের চেয়ে বেশি। যে স্নাতক কোড লিখতে পারে অথচ স্বাধীনভাবে ভাবতে পারে না, সে অর্ধশিক্ষিত, আর অর্ধশিক্ষিত নাগরিককে চালানো সহজ, কিন্তু ভরসা করা কঠিন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি প্রমাণ, শিক্ষার্থী ও বিদ্যাচর্চার কাছে জবাবদিহি করে, তবে তারা জাতীয় মান উন্নত করতে এবং চাপে থাকা সরকারি ব্যবস্থার ভার লাঘব করতে পারে। আর যদি মালিক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছেই জবাবদিহি করতে থাকে, তবে তারা ধনী হবে, কিন্তু দেশ জ্ঞানী হবে না।
একই পরীক্ষা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও প্রযোজ্য, এবং সবকিছু তদারক করা মন্ত্রণালয়ের জন্যও। কোনো র্যাঙ্কিং তালিকা এ বিষয়ের মীমাংসা করবে না। উন্মুক্ত পরিচালনা, সুরক্ষিত একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রকৃত গবেষণা বিনিয়োগ এবং জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট কথা বলা, কেবল এগুলোই প্রসারকে অগ্রগতিতে রূপ দিতে পারে। যতদিন তা না দেখি, আমরা প্রশ্ন করে যাব।
