ফারজানা নূপুর
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উদ্যোগে, আরআইএমইএস ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সহায়তায় চালু হয়েছে আবহাওয়ার তথ্যবিষয়ক মোবাইল অ্যাপ ‘আবহাওয়া’। এই পর্যালোচনায় অ্যাপটির সম্ভাব্য কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে কৃষক, নৌযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কতটা উপকৃত হতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব খাতে ইন্টারনেট সংযোগ, নেটওয়ার্কের গতি, স্মার্টফোন ব্যবহারের দক্ষতা ও কারিগরি সক্ষমতা অ্যাপটির সাফল্যে কতটা সহায়ক হবে, কিংবা কতটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নও উঠে এসেছে।
চালুর মধ্য দিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে
‘আবহাওয়া’ অ্যাপে রয়েছে অবস্থানভিত্তিক পূর্বাভাস, দুর্যোগের সতর্কবার্তা এবং জরুরি সংকেত শোনানোর বিশেষ ব্যবস্থা। ফোন নীরব অবস্থায় থাকলেও এই ব্যবস্থায় সতর্কবার্তার শব্দ শোনা যাবে। পরবর্তী সময়ে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য জানার সুবিধাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যাপটির এসব সুবিধা যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। সাধারণ আবহাওয়ার বুলেটিনে নির্দিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সব সময় স্পষ্টভাবে উঠে আসে না। অবস্থানভিত্তিক পূর্বাভাস সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতে পারে। রাতের বেলায় ঘূর্ণিঝড় কিংবা হঠাৎ ঝড়ের সতর্কবার্তা জানানোর ক্ষেত্রে ফোন নীরব থাকলেও শব্দ শোনানোর সুবিধাটি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
অ্যাপ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিও বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্যভান্ডার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশে বজ্রপাতে বছরে আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ফলে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তবে উদ্যোগ যত বড়ই হোক, প্রযুক্তির সাফল্য নির্ভর করে কত মানুষের কাছে তা পৌঁছাচ্ছে এবং তাঁদের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারছে, তার ওপর।
কৃষক: প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, বাধাও সবচেয়ে বেশি
সঠিক ও স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে কৃষকেরা বীজ বপন, সেচ, কীটনাশক প্রয়োগ এবং ফসল কাটার সময় নিয়ে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। কিন্তু দেশের অনেক গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কম, সংযোগ দুর্বল কিংবা ডেটা ব্যবহারের খরচ তুলনামূলক বেশি। হাওরাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যেসব জেলায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি, সেসব এলাকার অনেক জায়গায় নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অথচ এসব অঞ্চলকেই মন্ত্রী বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উদ্বোধনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বাভাস হালনাগাদ করতে যদি নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয়, তাহলে জরুরি সতর্কবার্তার সময়ই অ্যাপটি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। ফলে যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের কাছেই তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি হবে।
দ্বিতীয় সমস্যা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা। অনেক প্রবীণ কৃষক এখনো সাধারণ মুঠোফোন ব্যবহার করেন। যাঁদের স্মার্টফোন রয়েছে, তাঁদের অনেকে মূলত ফোনে কথা বলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। অ্যাপের বিভিন্ন মেনু খুঁজে বের করা, নিজের অবস্থান শনাক্ত করার অনুমতি দেওয়া কিংবা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পরিভাষা বোঝা তাঁদের জন্য কঠিন হতে পারে।
ভাষা ও উপস্থাপনার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি পরিভাষায় লেখা পূর্বাভাসের চেয়ে সহজ বাংলায় দেওয়া পরামর্শ কৃষকের বেশি কাজে লাগবে। যেমন, বৃষ্টি বা ঝড়ের আশঙ্কায় কখন ধান কাটা পিছিয়ে দেওয়া উচিত, কিংবা কখন সেচ দেওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো, তা সরাসরি জানানো প্রয়োজন।
এই বিবেচনায় কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য জানার সুবিধা কোনো বাড়তি আয়োজন নয়, বরং জরুরি প্রয়োজন। অথচ প্রথম পর্যায়ে সেই সুবিধা না থাকাটা অ্যাপটির একটি দুর্বলতা। কৃষি সম্প্রসারণকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা কমিউনিটি বেতারের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহারের নিয়ম ও সতর্কবার্তার অর্থ বুঝিয়ে না দিলে কৃষকদের মধ্যে এর ব্যবহার সীমিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
নৌপরিবহন: নিরাপত্তার প্রশ্ন, ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা
নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, লঞ্চ পরিচালনাকারী সংস্থা এবং ফেরিসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য আবহাওয়ার তথ্য সরাসরি যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া, দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়া কিংবা ঝড়ের সংকেত যেকোনো সময় যাত্রীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ‘আবহাওয়া’ সহায়ক তথ্যের উৎস হতে পারে। তবে প্রচলিত সতর্কব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে একে দেখা ঠিক হবে না। সংকেত পতাকা, বেতারবার্তা এবং নৌযানের চালকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মতো ব্যবস্থার প্রয়োজন থেকেই যাবে। নদীপথে কর্মরত অনেকের কাছে সাধারণ মানের মুঠোফোন থাকে। খোলা নদীতে নেটওয়ার্কের সংযোগও সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়। ছোট নৌযানে ফোন চার্জ দেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকাও একটি বাস্তব সমস্যা।
এর বাইরেও রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের প্রশ্ন। অ্যাপ চালুর সংবাদে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের সঙ্গে এর সংযোগ কীভাবে তৈরি হবে, সে বিষয়ে তেমন কিছু জানা যায় না। পূর্বাভাস যদি নৌটার্মিনালের ব্যবস্থাপনা, যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত এবং আবহাওয়ার কারণে যাত্রা স্থগিত রাখার নিয়মের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে অ্যাপটি তথ্য দেবে ঠিকই, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রভাব সীমিত থাকবে।
প্রকৃত সুফল পেতে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক তথ্যপর্দা, অনুমোদিত নৌযান পরিচালনাকারীদের কাছে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রা বন্ধ রাখার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।
শিল্প ও আবহাওয়নির্ভর ব্যবসা
নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, বন্দর, পোশাক কারখানা, মৎস্য খাত, ইটভাটা এবং খোলা জায়গায় অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। আগাম তথ্য পেলে এসব প্রতিষ্ঠান কাজের সময়সূচি বদলাতে, পণ্য ও সরঞ্জাম সুরক্ষিত রাখতে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। শহরাঞ্চলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে অ্যাপটি ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে, কারণ সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বেশি।
তবে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সাধারণ পূর্বাভাস সব সময় যথেষ্ট নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বাতাসের গতি, জোয়ারভাটার তথ্য এবং কয়েক দিনের পূর্বাভাস। পাশাপাশি এমন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসও দরকার, যার মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য সরাসরি তাদের নিজস্ব সফটওয়্যার ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে যুক্ত করা যায়।
অ্যাপ চালুর বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপযোগী সেবার ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য ও প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী কিংবা রাস্তার পাশে ব্যবসা করা মানুষের মতো ছোট উদ্যোক্তারাও কৃষকদের মতোই নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমিত দক্ষতার সমস্যায় পড়তে পারেন। ফলে শুধু অ্যাপ চালু করলেই সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর কাছে সমানভাবে এর সুফল পৌঁছাবে না।
অবকাঠামো ও কারিগরি সক্ষমতার পরীক্ষা
ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের বাইরে অ্যাপটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরির মূল ব্যবস্থাটি কতটা নির্ভরযোগ্য, তার ওপর। নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণকেন্দ্র, আধুনিক রাডারব্যবস্থা এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য নির্ভরযোগ্য কম্পিউটিং সক্ষমতা প্রয়োজন। স্থানীয় পূর্বাভাস যদি জেলা পর্যায়ের সাধারণ পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্যই বেশি কার্যকর হয়, তাহলে কয়েকবার সতর্কবার্তা ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের আস্থা দ্রুত কমে যেতে পারে।
সার্ভারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যার সময় একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন। ঠিক সেই সময়ে সার্ভার অচল হয়ে পড়লে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকে তাই নির্ভরযোগ্য সার্ভারব্যবস্থা, নিয়মিত হালনাগাদ, ব্যবহারকারীদের সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
দাতা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পে অনেক সময় অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রকল্পের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও অ্যাপটির রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত কতটা কাজে আসবে আবহাওয়া?
অ্যাপটির কার্যকারিতা বাড়াতে কয়েকটি পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। দুর্বল নেটওয়ার্কের এলাকায় ইন্টারনেট ছাড়াই পূর্বাভাস দেখার সুবিধা এবং মুঠোবার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। তবে পূর্বাভাস সংরক্ষণ ও হালনাগাদের পদ্ধতি এমন হতে হবে, যাতে পুরোনো তথ্যকে নতুন বলে মনে না হয়।
যাঁদের পড়তে অসুবিধা হয়, তাঁদের জন্য কণ্ঠস্বর ও সহজবোধ্য প্রতীকনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণকর্মী, ইউনিয়ন পরিষদ, নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠন এবং কমিউনিটি বেতারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিলে মানুষের আস্থা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়বে। নৌপরিবহনের প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অ্যাপটির সংযোগ তৈরি করাও জরুরি। পাশাপাশি কত মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করছেন, কোথায় সতর্কবার্তা পৌঁছাচ্ছে না এবং ব্যবহারকারীরা কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন, সেই তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।
‘আবহাওয়া’ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এর পরিকল্পনায় বাংলাদেশের বাস্তব আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু অ্যাপটির সাফল্য প্রযুক্তির আধুনিকতার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে ইন্টারনেট সংযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ওপর।
এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে অ্যাপটি হয়তো সেই মানুষদেরই বেশি কাজে আসবে, যাঁরা আগে থেকেই নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিসুবিধা পান। অথচ কৃষক, নৌযানের কর্মী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতো যাঁরা আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির মুখে সবচেয়ে বেশি থাকেন, তাঁরাই এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
আবহাওয়ার তথ্য পৌঁছে দেওয়াই শেষ কথা নয়। সেই তথ্য যেন সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং তাঁদের নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, তা নিশ্চিত করাই হবে ‘আবহাওয়া’ অ্যাপের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।
